TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ছোট নৌকায় ব্রিটেনে এসে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ৭ আফগান শরণার্থী

ছোট নৌকা ও ট্রাকে করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা সাত আফগান শরণার্থীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও শিশু যৌন নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা একটি সংঘবদ্ধ “গ্রুমিং গ্যাং” বা শিশু যৌন শোষণ চক্রের অংশ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নরউইচে পরিচালিত তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে মোট ৪০টি অপরাধের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।

ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) জানিয়েছে, অভিযোগগুলো ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে সংঘটিত বিভিন্ন যৌন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তটি নরফোক অঞ্চলে সংঘবদ্ধ শিশু যৌন শোষণ নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ২০ বছর বয়সী জামিল খলিল, ২১ বছর বয়সী আহমাদিন আহমাদজাই, ২০ বছর বয়সী কাইস কাকার, ২০ বছর বয়সী ফজল আউরিয়াখেল, ২৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফারুক সিনওয়ারি, ২১ বছর বয়সী আলি আহামাদ এবং ২০ বছর বয়সী সায়েদ ওয়াহিদ দাভদজাই।

সিপিএস জানিয়েছে, সাতজনই ছোট নৌকা বা ট্রাকে করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন এবং বর্তমানে তাদের অভিবাসন মর্যাদা “শরণার্থী”।

নরফোক পুলিশ নরউইচের ছয়টি ও স্কটল্যান্ডের ডামবার্টনের একটি ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার তাদের নরউইচ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত আগামী ১৯ জুন নরউইচ ক্রাউন কোর্টে শুনানির আগ পর্যন্ত সবাইকে কারাগারে আটক রাখার নির্দেশ দেয়।

তবে পুলিশ জোর দিয়ে বলেছে, অভিযুক্তদের কেউই নরফোকের কোনো আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে বসবাস করেননি এবং অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলোর কোনোটি আশ্রয়প্রার্থী হোটেলে ঘটেনি।

তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া নরফোক কনস্ট্যাবুলারির গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট স্টেসি মারে বলেন, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “একটি বিশেষায়িত তদন্ত দল প্রতিটি সম্ভাব্য তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের মানসিক আঘাত ও সংবেদনশীল অবস্থার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, শিশু নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা কখন সামনে আসবেন বা আদৌ অভিযোগ করবেন কি না, সেটি সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। তাই তদন্ত প্রক্রিয়াকে যতটা সম্ভব সহায়ক ও নিরাপদ রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

নরফোক পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট ক্রেইগ মিলার বলেন, “এ ধরনের ঘটনা সমাজকে নাড়া দেয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। নরউইচ ও নরফোকের মানুষকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে শিশুদের সুরক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

তিনি জানান, স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়াতে আগামী কয়েক সপ্তাহ নরউইচ ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

এদিকে সিপিএসের সংঘবদ্ধ শিশু যৌন নির্যাতন ইউনিটের প্রধান কৌঁসুলি জেনি হপকিন্স বলেন, তদন্তে সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ভিত্তি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, “জনস্বার্থ বিবেচনায় আমরা ফৌজদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং পুরো তদন্তে নরফোক পুলিশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছি।”

এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে আবারও অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও শরণার্থী যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসীদের বিষয়ে সরকারের নীতির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

ইসরায়েলে কিছু অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করছে যুক্তরাজ্য, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদেশ ভ্রমণে ব্রিটিশদের লাগবে নতুন ফর্ম

অনলাইন ডেস্ক

৭ মাস পর জানা গেল টেমস নদীতে ঝাঁপ দেওয়া কিশোর জাহেদের ‘মৃত্যুরহস্য’