TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

কর ছাড় কমিয়ে আরও লাখো মানুষকে করের আওতায় আনছে ব্রিটেন

যুক্তরাজ্যে করমুক্ত আয়ের সীমা দীর্ঘদিন স্থির থাকায় এবং বিভিন্ন কর ছাড় কমিয়ে দেওয়ায় লাখো মানুষ নতুন করে আয়করের আওতায় চলে আসছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও করসীমা অপরিবর্তিত রাখার কারণে সাধারণ কর্মজীবীদের ওপর করের চাপ দ্রুত বাড়ছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অধিকাংশ মানুষের জন্য ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা বছরে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ড। এই সীমার মধ্যে আয় হলে কোনো আয়কর দিতে হয় না। তবে এর বেশি আয় হলেই ধাপে ধাপে ২০ শতাংশ, ৪০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়।

১২ হাজার ৫৭১ পাউন্ড থেকে ৫০ হাজার ২৭০ পাউন্ড পর্যন্ত আয়ের ওপর ২০ শতাংশ কর আরোপ করা হয়। ৫০ হাজার ২৭১ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ১৪০ পাউন্ড পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে করহার ৪০ শতাংশ। আর এর বেশি আয়ের ওপর ৪৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত কর দিতে হয়।

তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে “ফিসকাল ড্র্যাগ” নামে পরিচিত অর্থনৈতিক প্রভাব। এর অর্থ হলো, করসীমা অপরিবর্তিত থাকলেও মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের বেতন বাড়ে এবং ধীরে ধীরে আরও বেশি মানুষ উচ্চ করসীমায় প্রবেশ করেন।

যুক্তরাজ্যে ২০২১ সাল থেকে আয়কর সীমা স্থির রয়েছে। অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস সাম্প্রতিক বাজেটে এই সীমা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর ফলে আগামী বছরগুলোতে আরও লাখো মানুষ প্রথমবারের মতো আয়কর দিতে বাধ্য হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির (ওবিআর) হিসাব অনুযায়ী, ২০৩১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৫২ লাখ নিম্ন আয়ের মানুষ প্রথমবারের মতো কর ব্যবস্থার আওতায় আসবেন। একই সময়ে আরও ৪৮ লাখ মানুষ ৪০ শতাংশ করসীমায় প্রবেশ করবেন এবং প্রায় ৬ লাখ মানুষ সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করের আওতায় চলে যাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করসীমা স্থির রেখে সরকার কার্যত মানুষের বেতন বৃদ্ধির বড় অংশ কর হিসেবে নিয়ে নিচ্ছে।

আয়করের পাশাপাশি ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স বা জাতীয় বীমা অবদানও সাধারণ মানুষের জন্য বড় ব্যয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ১২ হাজার ৫৭০ পাউন্ডের বেশি আয়ের ওপর কর্মজীবীরা ৮ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের অংশে ২ শতাংশ হারে অবদান দিচ্ছেন।

কর সাশ্রয়ের অন্যতম উপায় হিসেবে পেনশন খাতে বিনিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হচ্ছে। বর্তমানে একজন ব্যক্তি বছরে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত পেনশনে জমা রেখে কর ছাড় সুবিধা পেতে পারেন।

তবে বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। লভ্যাংশ আয়ের করমুক্ত সীমা ২০২৪ সালে কমিয়ে মাত্র ৫০০ পাউন্ড করা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও এই সীমা ছিল ২ হাজার পাউন্ড।

মূলধনী মুনাফা কর বা ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্সের করমুক্ত সীমাও নাটকীয়ভাবে কমানো হয়েছে। এটি ১২ হাজার ৩০০ পাউন্ড থেকে কমিয়ে এখন ৩ হাজার পাউন্ডে নামিয়ে আনা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে মূলধনী মুনাফার করহারও বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের জন্য হার ১০ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের করদাতাদের জন্য ২০ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পরিবর্তনের ফলে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি মানুষকে বিনিয়োগ আয়ের ওপর কর দিতে হচ্ছে।

তবে কর কমানোর জন্য কিছু বৈধ সুবিধাও রয়েছে। “ম্যারেজ অ্যালাউন্স” ব্যবস্থার আওতায় কম আয়ের স্বামী বা স্ত্রী নিজের করমুক্ত সীমার একটি অংশ অন্যজনের কাছে হস্তান্তর করতে পারেন। এতে বছরে সর্বোচ্চ ২৫২ পাউন্ড পর্যন্ত কর সাশ্রয় সম্ভব।

একইভাবে সঞ্চয়ের সুদের ওপরও নির্দিষ্ট কর ছাড় রয়েছে। সাধারণ করদাতারা বছরে ১ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সুদ করমুক্ত রাখতে পারেন। তবে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে এই সীমা কমে ৫০০ পাউন্ডে নেমে আসে।

বাড়ির কক্ষ ভাড়া দেওয়া, ক্ষুদ্র ব্যবসা বা অতিরিক্ত আয়ের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করমুক্ত সুবিধা রয়েছে। নিজের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া দিলে বছরে ৭ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা যায়।

কর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে করের চাপ দ্রুত বাড়ছে। তাই করদাতাদের উচিত সরকারি কর ছাড় ও সঞ্চয় সুবিধাগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং বৈধ উপায়ে কর সাশ্রয়ের সুযোগ কাজে লাগানো।

তাদের মতে, করব্যবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কর পরিশোধ করছেন, যা বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সময়ে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

অন্তর্দ্বন্দ্বে ভাঙনঃ যুক্তরাজ্যে ‘ইওর পার্টি’ থেকে সরে দাঁড়ালেন স্বতন্ত্র এমপি আদনান হুসেইন

দুর্নীতিগ্রস্ত প্রাক্তন কর্মকর্তার জন্য কৃষ্ণাঙ্গদের কাছে ক্ষমা চাইলো ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ

দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে রেকর্ড বৃষ্টির আশঙ্কা, ভ্রমণে বড় ধরনের বিঘ্নের সম্ভাবনা