ব্রিটেনে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজের বাড়িতে শিম, স্যুপ ও টুইগলেটস নামের একটি জনপ্রিয় নাশতা মজুত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সাইবার হামলা কিংবা অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে কয়েক দিন প্রয়োজনীয় খাবার ও পানির সংকট না হয়, সে জন্য পরিবারগুলোকে অন্তত তিন দিনের সরবরাহ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে সরকার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের ‘বি রেডি’ (প্রস্তুত থাকুন) প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে নাগরিকদের বাড়িতে বোতলজাত পানি ও দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়—এমন খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য আতঙ্ক সৃষ্টি করা বা মানুষকে অতিরিক্ত কেনাকাটায় উৎসাহিত করা নয়; বরং প্রয়োজনের সময় মোকাবিলার জন্য যুক্তিসংগত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহামকে প্রশ্ন করা হয়, সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারের মতো তিনিও জরুরি সরবরাহের তালিকায় এক বোতল সাদা ওয়াইন রাখবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, সংকটের মুহূর্তে ওয়াইন সম্ভবত প্রথম প্রয়োজনীয় জিনিস নয়। তবে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার কাজ শেষ হলে তা কাজে আসতে পারে।
নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বার্নহাম বলেন, তার রান্নাঘরের আলমারিতে পর্যাপ্ত শিম ও স্যুপ রয়েছে। পাশাপাশি টুইগলেটসও মজুত রেখেছেন। মজা করে তিনি বলেন, এই নাশতা ছাড়া তিনি বেশিদিন চলতে পারবেন বলে মনে করেন না।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তা। আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ কিংবা সাইবার হামলার কারণে বিদ্যুৎ, পানি, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা ব্যাহত হলে বাড়িতে খাবার ও পানির সরবরাহ থাকলে তাৎক্ষণিক সংকট সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং এর আগে সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া কিংবা অন্য কোনো বৈরী শক্তির রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেছেন।
বার্নহাম জানিয়েছেন, সরকারের পরামর্শটি তাৎক্ষণিক বিপদের সতর্কবার্তা নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ। তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বাড়ছে। তাই বাড়িতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সরবরাহ রাখা একটি যুক্তিসংগত পদক্ষেপ।
জরুরি সরবরাহের পরামর্শ শুনে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় পণ্য ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অতিরিক্ত কেনাকাটা করতে পারেন—এমন উদ্বেগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করার নয়। বরং কঠিন পরিস্থিতিতে কয়েক দিন চলার মতো প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঘরে রাখাই এর উদ্দেশ্য।
এদিকে, ব্রিটিশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জেমস মারে স্বীকার করেছেন, তিনি নিজেও সরকারের দেওয়া সব পরামর্শ এখনো অনুসরণ করেননি। তার বাড়িতে প্রচুর কফি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সরকার নির্দিষ্ট কোনো কেনাকাটার তালিকা চাপিয়ে দিতে চায় না বলেও জানান তিনি।
মারে আরও বলেন, ইউরোপের কয়েকটি দেশে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আয়ারল্যান্ড, ফ্রান্স ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশে জরুরি পরিস্থিতির জন্য বাড়িতে কিছু প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার বিষয়টি পরিচিত চর্চা। ব্রিটেনেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিষয়টি নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এমকে

