10.6 C
London
October 18, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে সহিংসতাঃ প্যারিসে গ্রেপ্তার ৮৫৫

ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যে প্যারিসে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভের পর দেশজুড়ে এক হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন। তবে বিক্ষোভের একপর্যায়ে বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্যারিসে ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে ৮৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংঘর্ষে ১৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্যারিসের বুলভার্ড ম্যাজেন্টা এলাকায় একটি মিছিল চলাকালে এক বিক্ষোভকারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে অন্য বিক্ষোভকারীরা তাকে শাতো দো এলাকার জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠি ব্যবহার করে। অন্যদিকে, কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে পেট্রোলবোমা ছোড়েন, পুলিশের গাড়ি ধাওয়া করেন এবং বিভিন্ন দোকানের জানালা ভাঙচুর করেন। লুটপাটের পর কয়েকজনকে চুরি করা মালামাল নিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ফ্রান্সের মধ্যাঞ্চলীয় লিমোজ শহরে ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের তীব্রতায় ভবনটির একটি ঐতিহাসিক চূড়া ধসে পড়ে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মরিস বারাতের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবনটির ছাদ নিচের তলাগুলোর ওপর ধসে পড়ে এবং ভবনটির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শহরটির মেয়র বেনোয়া পায়াঁ সরকারি ভবনে হামলার ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

লিয়ঁ শহরেও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখোশধারী হামলাকারীরা একটি সরকারি পর্যটন কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এ ছাড়া প্যারিস ও মার্সেইয়ের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ স্থাপনায় হামলা এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরের কয়েকটি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ রাখা হয়।

সহিংসতার ঘটনায় সরকারি সম্পত্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংসের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে ফরাসি প্রসিকিউটররা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, বিশৃঙ্খলার সময় সাধারণ মানুষও হামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসংকটের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে এক পুলিশ সূত্র দ্য সানকে জানিয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সহিংসতা ও ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, সরকারি কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও টাউন হলে হামলা চালানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানানোর অধিকার রক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও হামলার কোনো সুযোগ নেই। তার অভিযোগ, ফ্রান্সের কয়েকটি শহরে উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী সহিংসতা সংগঠিত করেছে এবং অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লুটপাট চালিয়েছে।

এদিকে, দেশজুড়ে সহিংসতা চলার সময় প্রেসিডেন্ট মাখোঁ ও তার স্ত্রী ব্রিজিত মাখোঁর একটি সেলিন ডিওনের কনসার্টে অংশ নেওয়া নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। শুক্রবার রাতে তাদের কনসার্টের ব্যক্তিগত আসনে নাচতে দেখা যায়। এ নিয়ে সমালোচকেরা ফরাসি বিপ্লবের সময়কার রাজা ষোড়শ লুই ও রানি মারি আঁতোয়ানেতের সঙ্গে তুলনা করেন।

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কীভাবে দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ নিল, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে দ্য সানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এমকে

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনিরা ‘গণহত্যার’ শিকার উল্লেখ করে জাতিসংঘ কর্মকর্তার পদত্যাগ

জ্বালানি সুইচ বন্ধ করাতেই এয়ার ইন্ডিয়া প্লেন দুর্ঘটনা, প্রাথমিক তদন্তে পাইলটদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

যুদ্ধ ফের শুরু হলে ‘নতুন কৌশল’ দেখাবে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রের হুঁশিয়ারি জারি