18.4 C
London
June 3, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের ওপর নতুন শুল্কের হুমকি ট্রাম্পের

জোরপূর্বক শ্রম (Forced Labour) প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি দেশ ও অর্থনীতির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রস্তাবিত এই শুল্কের হার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

নতুন এই উদ্যোগের আওতায় যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, বাংলাদেশ, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি কার্যকরভাবে বন্ধ ও নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্য নীতির নতুন সংস্করণ। ক্ষমতায় ফিরে তিনি আবারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।

প্রস্তাবিত শুল্কের আইনি ভিত্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (USTR) ৬০টি দেশ ও অর্থনীতির বিরুদ্ধে সেকশন ৩০১ তদন্ত শুরু করেছে। এসব তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ঘিরে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর তিনি সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেন। কিন্তু গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড কোর্টও সেই পদক্ষেপকে বেআইনি বলে রায় দেয়।

যদিও আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল চলমান থাকায় বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে, তবে নতুন প্রস্তাবিত ট্যারিফের মাধ্যমে আদালতের সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প—এমন মন্তব্যও উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ট্রাম্পের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে। ইইউ কর্মকর্তারা বলেছেন, গত জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর মধ্যে যে শুল্ক-সংক্রান্ত সমঝোতা হয়েছিল, নতুন এই পদক্ষেপ সেই চুক্তির চেতনার পরিপন্থী। তারা আশা করছেন, ওয়াশিংটন পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

ট্যারিফের আওতায় থাকা দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, চীন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইউক্রেন এবং রাশিয়াসহ মোট ৬০টি দেশ ও অর্থনীতি।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত এই শুল্ক কার্যকর হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো, বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত, সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মুখে পড়তে পারে।

তবে এখনো এটি একটি প্রস্তাবনা পর্যায়ে রয়েছে। তদন্তের ফলাফল, আইনি প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত এসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে কি না।

সূত্রঃ এপি

এম.কে

আরো পড়ুন

‘নগদে’ প্রশাসকের কাজ চালাতে বাধা নেইঃ আপিল বিভাগ

সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, রুখে দিলো বিজিবি

বাংলা ব্লকেডঃ হেঁটে-অটোরিকশায় সংসদে গেলেন ইইউ রাষ্ট্রদূত