লন্ডনে বাসচালকদের জন্য টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে অনেক চালককে এখনও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। লন্ডনের পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের (টিএফএল) রেলস্টেশনগুলোতে থাকা শৌচাগার ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে বাসচালকদের কর্মপরিবেশ ও মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডনের ১৩ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ৩৩০ নম্বর বাসের এক চালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে অভিযোগ করেন, ওয়ানস্টেড পার্ক স্টেশনে কর্মীরা তাকে টিকিটের প্রবেশদ্বারের ভেতরে থাকা শৌচাগার ব্যবহার করতে দেননি।
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ২০২২ সালের ডিসেম্বরে লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে বলেছিলেন, যেখানে সুবিধা রয়েছে, সেখানে বাসচালকদের স্টেশনের শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে। তবে সাম্প্রতিক অভিযোগে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের প্রায় ২৫ শতাংশ বাস রুটে চালকদের জন্য টার্মিনালের মাত্র এক প্রান্তে শৌচাগার রয়েছে। ফলে যাত্রাপথের অন্য প্রান্তে বা চলাচলের মাঝখানে প্রয়োজন হলে চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়। ওয়ানস্টেড পার্ক থেকে টেমস ব্যারিয়ার পর্যন্ত চলাচলকারী ৩৩০ নম্বর বাস রুটও এই সীমাবদ্ধতার মধ্যে রয়েছে।
এ বছরের গ্রীষ্মে আইটিভি নিউজ লন্ডনের অনুসন্ধানে ছয়টি বাস রুটে চালকদের ব্যবহারের জন্য কোনো শৌচাগার না থাকার তথ্য উঠে আসে। পরে লন্ডন বাস ফোরাম ও অন্যান্য প্রচারক গোষ্ঠীর অনুসন্ধানে এমন রুটের সংখ্যা বেড়ে নয়টিতে দাঁড়ায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গরমের সময় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল। লন্ডনে তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছালেও কিছু চালক শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজন এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে পানি পান কমিয়ে দিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ সময়মতো শৌচাগারে পৌঁছাতে না পেরে প্লাস্টিকের বোতলে প্রস্রাব করতে বাধ্য হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চালকদের কর্মপরিবেশ ও শৌচাগারের সংকট নিয়ে চলতি গ্রীষ্মে প্রায় ১,৫০০ বাসচালক ধর্মঘট করেছিলেন। তাদের দাবির মধ্যে ছিল অমানবিক কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
মাই লন্ডনের ‘ব্যাক আওয়ার বাস ড্রাইভার্স’ প্রচারের পর টিএফএল লন্ডনজুড়ে আগামী কয়েক বছরে ৫৩টি নতুন শৌচাগার স্থাপনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি বর্তমানে সুবিধাবঞ্চিত ছয়টি বাস রুটে শৌচাগারের ব্যবস্থা করা এবং আরও ১০টি রুটে চালকদের পুরো কর্মকালজুড়ে শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মাই লন্ডনকে দেওয়া বক্তব্যে টিএফএল জানায়, ৩৩০ নম্বর বাসের যাত্রাপথে টয়লেট ব্যবহারের সুযোগ যথেষ্ট বলে তারা মনে করে, কারণ বাসটির যাওয়া-আসার পুরো যাত্রায় আনুমানিক ৮০ মিনিট সময় লাগে।
টিএফএলের এক মুখপাত্র বলেন, বাসচালকদের কল্যাণকে তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং কর্মরত অবস্থায় তাদের শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ থাকা জরুরি। ওয়ানস্টেড পার্ক স্টেশনের ঘটনাটি নিয়েও তারা অনুসন্ধান করছে। চালকদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং বিরতির সময় নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত আট বছরে লন্ডনের ১৫৪টি স্থানে শৌচাগার সংস্কার করা হয়েছে অথবা নতুন শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। অধিকাংশ বাস রুটের যাত্রার শেষ প্রান্তে প্রয়োজনীয় শৌচাগারের ব্যবস্থা রয়েছে বলে দাবি করেছে টিএফএল। তবে যেখানে ঘাটতি রয়েছে, সেখানে সুবিধা বাড়ানোর কাজ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

