ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে ব্যাকটেরিয়ার জিন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ধরনের ‘সুইচ’ তৈরি করেছেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর গবেষকরা। তাদের এই গবেষণার লক্ষ্য, এমন ব্যাকটেরিয়া তৈরি করা, যা টিউমারের ভেতরের বিশেষ পরিবেশে সক্রিয় হয়ে ভবিষ্যতে ক্যানসার চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণায় ক্লস্ট্রিডিয়াম স্পোরোজেনিস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। কিছু কঠিন টিউমারের কেন্দ্রীয় অংশে মৃত টিস্যু তৈরি হয় এবং সেখানে অক্সিজেনের ঘাটতি থাকে। ব্যাকটেরিয়াটির এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে টিউমারকেন্দ্রিক চিকিৎসা উদ্ভাবনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বৈজ্ঞানিক সাময়িকী এসিএস সিনথেটিক বায়োলজি-তে। এতে গবেষকরা দেখিয়েছেন, ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের উৎপাদিত রাসায়নিক সংকেত একটি ফ্লুরোসেন্ট প্রোটিন সক্রিয় করতে পারে। এই প্রোটিনের মাধ্যমে কোষের ভেতরে জিনের কার্যক্রম সক্রিয় হয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।
গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ব্যাকটেরিয়ার ভেতরে জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের একটি পদ্ধতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়াকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট উপাদান উৎপাদনের জন্য প্রোগ্রাম করার পথ তৈরি হতে পারে। তবে এই পরীক্ষায় ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে ক্যানসার নির্মূল করা হয়নি।
এদিকে, পৃথক আরেকটি গবেষণায় ব্যাকটেরিয়াটির অক্সিজেন সহ্য করার সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও অগ্রগতি হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর এক ঘোষণায় জানানো হয়, গবেষকরা ব্যাকটেরিয়ার জিন নিয়ন্ত্রণের এই প্রযুক্তি এবং অক্সিজেন সহ্য করার উন্নত সক্ষমতা একত্র করার পরিকল্পনা করছেন। এরপর প্রাক্-ক্লিনিক্যাল গবেষণায় টিউমারের বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করার কথা রয়েছে।
গবেষকদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো, এমন ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক চিকিৎসা তৈরি করা, যা নির্দিষ্টভাবে টিউমারকে লক্ষ্য করতে পারবে এবং সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি কমানোর সম্ভাবনা তৈরি করবে। প্রচলিত ক্যানসার চিকিৎসার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোও এ ধরনের গবেষণার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য। তবে এসব সুবিধা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক ক্যানসার চিকিৎসা বাস্তবে ব্যবহারের আগে এর নিরাপত্তা, কার্যকারিতা, শরীরে ব্যাকটেরিয়ার আচরণ এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই ওয়াটারলুর বিজ্ঞানীদের এই অগ্রগতি ক্যানসার চিকিৎসার একটি সম্ভাবনাময় গবেষণাপথ হলেও, রোগীদের চিকিৎসায় এটি ব্যবহারের পর্যায়ে পৌঁছাতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন।
সূত্রঃ ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলু\ এসিএস সিনথেটিক বায়োলজি
এমকে

