TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

ট্রেনের টিকিট কালোবাজারির সন্দেহঃ সিলেটে ‘বড় সিন্ডিকেটের’ খোঁজে পিবিআই

সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআই। আদালতের নির্দেশে এই তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যাত্রার ১০ দিন আগে নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে টিকিট ছাড়ার পর অনেক যাত্রী সঙ্গে সঙ্গে সরকারি প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেও টিকিট কিনতে পারছেন না। অথচ টিকিট ছাড়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের বিষয়টি আমলে নিয়ে সিলেটের আমলি-১১ আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা করেন। পরে ১ অক্টোবর আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক আবদুল আহাদকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বুধবার তদন্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআই কর্মকর্তা আবদুল আহাদ বলেন, তদন্ত ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে থাকা বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় একটি বড় সিন্ডিকেট জড়িত থাকার প্রাথমিক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং বিষয়টির গভীরে গিয়ে তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

সিলেট-ঢাকা রুটে উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা ও পারাবত এক্সপ্রেস এবং সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে পাহাড়িকা ও উদয়ন এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে।

বাংলাদেশের অন্যান্য রুটের মতো এসব ট্রেনের টিকিটও যাত্রীদের অনলাইনে সংগ্রহ করতে হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রী পরবর্তী সময়ে অন্য মাধ্যম থেকে বেশি দামে টিকিট সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, টিকিট ছাড়ার পরপরই কয়েকটি চক্র বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনে নিচ্ছে এবং টিকিট বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তির সহায়তায় এসব টিকিট সংগ্রহ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরে ওই টিকিট সাধারণ যাত্রীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে সিলেট অঞ্চলের পর্যটন শিল্পের বিকাশও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বতঃপ্রণোদিত মামলার সময় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল নোমান উল্লেখ করেন, টিকিট কালোবাজারি ও মজুতসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। সরকারি ওয়েবসাইটে টিকিট ছাড়ার পর অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও সন্দেহজনক হিসেবে দেখা হয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি ওয়াদা

এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডনে ঈদের জামাতে প্রকাশ্যে দেখা গেল হাছান মাহমুদকে

এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার আর নেই

বাংলাদেশকে আইএমএফের সতর্কতাঃ ঋণ-রপ্তানি অনুপাত বিপজ্জনক সীমায়