যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের অন্যতম ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারে সোমবার বিকেলে ভয়াবহ ছুরিকাণ্ডে একজন নারী নিহত এবং একজন পুরুষ আহত হয়েছেন। দুই পথচারীর ওপর পরপর ছুরি হামলার পর পুলিশের দিকে ছুরি হাতে এগিয়ে যাওয়ায় ৪৯ বছর বয়সী পামেলা সিসনেরোসকে গুলি করে হত্যা করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ—এনওয়াইপিডি।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টার দিকে সিসনেরোস টাইমস স্কয়ারের ব্যস্ত এলাকায় একটি লাল ব্যাগ থেকে দুটি বড় ছুরি বের করেন। এরপর তিনি কোনো দৃশ্যমান উসকানি ছাড়াই পথচারীদের দিকে এগিয়ে যান এবং মাত্র প্রায় ২০ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুজনকে ছুরিকাঘাত করেন।
প্রথমে সাবওয়ে থেকে বের হয়ে স্ত্রীর সঙ্গে রাস্তা পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ৬৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন তিনি। ওই ব্যক্তি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। এরপর সিসনেরোস আরও এক ব্লক এগিয়ে ৩২ বছর বয়সী ব্যাংক কর্মকর্তা এরিন পিয়াসেন্তির পেটে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর পিয়াসেন্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হামলার পরও থামেননি সিসনেরোস। হাতে থাকা দুই ছুরি নিয়ে তিনি সেভেন্থ অ্যাভিনিউ ধরে এগিয়ে গিয়ে ৪২ ও ৪৩ নম্বর স্ট্রিটের মাঝামাঝি এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি হন। সেখানে কর্মকর্তারা প্রায় চার মিনিট ধরে তাকে ছুরি ফেলে দিতে বলেন। কিন্তু তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করেন এবং কর্মকর্তাদের হত্যার হুমকি দেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ প্রথমে স্টান গান বা টেইজার ব্যবহার করে। তবে সেটি কার্যকর হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর সিসনেরোস ছুরি হাতে কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে যেতে থাকলে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুলি চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এনওয়াইপিডির তথ্য অনুযায়ী, সিসনেরোসের মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সমস্যার নথি পুলিশের কাছে আগে থেকেই ছিল। ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও তার বিষয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য পুলিশের নথিতে ছিল। তবে তার কোনো পূর্ব অপরাধের ইতিহাস ছিল না। ঘটনাস্থল থেকে হামলায় ব্যবহৃত দুটি ছুরিই উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হামলাটি এলোমেলো ও বিনা উসকানিতে সংঘটিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ঘটনাটির সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর নিরাপত্তার কারণে ৪২ নম্বর স্ট্রিট থেকে ৪৭ নম্বর স্ট্রিট পর্যন্ত সেভেন্থ অ্যাভিনিউয়ের অংশ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ব্যস্ত পর্যটন এলাকায় আকস্মিক এই হামলায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের এলাকায় চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে।
সূত্রঃ এনবিসি নিউইয়র্ক
এম.কে

