পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও বিধায়ক অর্জুন সিং। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী কোনো পশু কোরবানি দেওয়া যাবে না এবং পশুর বয়স নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের অনাপত্তিপত্র বা সনদ বাধ্যতামূলক করতে হবে।
অর্জুন সিং বলেন, কোরবানির ক্ষেত্রে পুরো প্রক্রিয়া কঠোরভাবে আইনের আওতায় পরিচালিত হওয়া উচিত। তার মতে, শুধুমাত্র নির্ধারিত বয়স অতিক্রম করা পশুকেই কোরবানির অনুমতি দেওয়া উচিত এবং এ বিষয়ে সরকারি সনদ ছাড়া কোনো পশু জবাই করা যাবে না।
বিজেপি নেতার এই বক্তব্য ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে আসন্ন ঈদে রাস্তায় নামাজ আদায় না করা এবং অবৈধ পশুর হাট বন্ধ করার বিষয়েও কড়াকড়ির দাবি উঠেছে।
ভারতের বিদ্যমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ১৪ বছরের বেশি বয়সী গরু জবাইয়ের অনুমতি রয়েছে। এছাড়া হাইকোর্ট ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, গর্ভবতী বা তিন মাসের কম বয়সী পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আইন অনুযায়ী, কোনো পশু জবাইয়ের আগে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছ থেকে উপযুক্ততার সনদ নেওয়াও বাধ্যতামূলক। তবে অর্জুন সিংয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এমন বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় আচার, আইনি বিধান এবং রাজনৈতিক অবস্থানের সমন্বয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিজেপি নেতার এই মন্তব্য ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এটিকে আইনের প্রয়োগের দাবি হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন, এটি ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া \ মানবজমিন
এম.কে

