TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

“পুতিনের বাহিনী এখন আরও ভয়ংকর”—ব্রিটেনকে সতর্ক করলেন ন্যাটো কমান্ডার

লন্ডনের ব্যস্ত ট্রাফালগার স্কয়ারের নিচে, পরিত্যক্ত আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে গোপনে চলছে ন্যাটোর যুদ্ধ মহড়া। কম্পিউটার স্ক্রিনে ভেসে উঠছে রুশ সেনাবাহিনীর অবস্থান, হামলার পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ কৌশল। আর সেই মহড়ার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক ব্রিটিশ জেনারেল সরাসরি সতর্ক করে দিয়েছেন—রাশিয়াকে ভয় পাওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

ন্যাটোর ‘অ্যালাইড র‍্যাপিড রিঅ্যাকশন কর্পস’-এর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাইক এলভিস বলেছেন, ইউক্রেনে ২০২২ সালের আগ্রাসনের সময়ের তুলনায় রাশিয়ার সেনাবাহিনী এখন “অনেক বেশি প্রাণঘাতী” ও যুদ্ধ-অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। তার ভাষায়, “রুশ সেনাদের আমি ব্যক্তি হিসেবে ভয় পাই না, কিন্তু তারা এখন বাস্তব যুদ্ধে কঠিনভাবে পরীক্ষিত। গত চার বছর ধরে তারা যুদ্ধের মধ্যেই রয়েছে। সেটাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে জেনারেল এলভিস বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক, আরও আক্রমণাত্মক এবং আরও প্রযুক্তিনির্ভর বাহিনীতে রূপান্তর করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে রুশ বাহিনীকে এখন “ভয়ংকর প্রতিপক্ষ” হিসেবে বিবেচনা করছে ন্যাটো।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বাধীন এই ন্যাটো বাহিনীকে ইউরোপে সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসন ঠেকানোর প্রথম সারির প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। পূর্ণ মোতায়েনের সময় এতে প্রায় ৬০ হাজার সেনা থাকবে, যার মধ্যে ব্রিটিশ বাহিনীর পাশাপাশি ইতালি, কানাডা ও সুইডেনের সেনারাও যুক্ত থাকবে।

জেনারেল এলভিস বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ ন্যাটোকে সম্পূর্ণ নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। আগে সামরিক সদর দপ্তরগুলো তাঁবু ও খোলা স্থাপনায় পরিচালিত হতো, কিন্তু এখন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকির কারণে ভূগর্ভস্থ নিরাপদ ঘাঁটি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে পশ্চিমা সামরিক জোট।

এই কারণেই লন্ডনের চারিং ক্রস আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের পরিত্যক্ত টানেলে যুদ্ধ মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সেনারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য রুশ হামলার প্রতিক্রিয়া অনুশীলন করছে।

জেনারেল এলভিসের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ হবে “অত্যন্ত দ্রুত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং দীর্ঘপাল্লার হামলা কেন্দ্রিক”। তিনি বলেন, “যদি শত্রুর চেয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চান, তাহলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেও ইউরোপের জন্য হুমকি শেষ হবে না। বরং তখন রাশিয়া নতুন করে নিজেদের পুনর্গঠনের সুযোগ পাবে। তার ভাষায়, “ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে পুনরায় শক্তি সঞ্চয়ের দৌড় শুরু হবে। সেই দৌড়ে আমরা হারতে পারি না।”

পুতিনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ব্রিটিশ জেনারেল বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বহুবার প্রকাশ্যে কিয়েভসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলের বিষয়ে নিজের আকাঙ্ক্ষার কথা বলেছেন। তাই ন্যাটো এখন সবচেয়ে খারাপ সম্ভাবনাকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সুইডেন, ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো রুশ হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কিন্তু ব্রিটেনসহ পশ্চিম ইউরোপের অনেক সাধারণ মানুষ এখনো পুরো পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারেননি।

জেনারেল এলভিসের ভাষায়, “ঠান্ডা যুদ্ধের পর যে শান্তির বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন বদলে গেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মানসিকতায় সেই পরিবর্তন পুরোপুরি পৌঁছায়নি।”

ব্রিটেনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো ও জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও বড় অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, আগামী কয়েক বছরে ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

সবশেষে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বর্তমান এই মহড়াগুলো বাস্তব সামরিক অভিযানে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা “পঞ্চাশ-পঞ্চাশ”। আর একজন অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এটিকে “উদ্বেগজনক বাস্তবতা” বলেই মনে করেন।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

হরমুজে বিধ্বস্ত ২৪ কোটি ডলারের মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক ড্রোন

নোবেল পুরস্কার জয়ের কল পেয়ে অধ্যাপক অ্যানি বললেন ‘আমি ব্যস্ত, ক্লাস নিচ্ছি’

নোবেল শান্তি পুরস্কারের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, সমর্থন ইসরায়েল ও পাকিস্তানের