TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

ফকল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে মন্তব্যঃ ব্রিটিশ ডানপন্থীদের তোপের মুখে নেতানিয়াহুর ছেলে

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বিরোধে মন্তব্য করে ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়াইর নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফকল্যান্ডকে আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড বলে মন্তব্য করার পর তার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কয়েকজন ডানপন্থী রাজনীতিক।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে ইয়াইর নেতানিয়াহু লেখেন, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’ এরপর ধারাবাহিক কয়েকটি পোস্টে তিনি যুক্তরাজ্য সরকারের নীতির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ব্রিটেন ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইসরায়েলের প্রতি শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান হিসেবে তুলে ধরে যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগও আনেন।

ইয়াইর আরও দাবি করেন, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই ইসরায়েলপন্থি অবস্থান নেওয়ায় আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন থাকা উচিত। তার এই অবস্থানই মূলত ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিকদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।

যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী দল রিস্টোর ব্রিটেনের নেতা রূপার্ট লো ইয়াইরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেন। তিনি বলেন, ফকল্যান্ড ব্রিটিশ এবং ভবিষ্যতেও ব্রিটিশই থাকবে। প্রয়োজন হলে দ্বীপপুঞ্জ রক্ষায় যুদ্ধ করার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে ইয়াইরকে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নিয়ে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন এই ব্রিটিশ রাজনীতিক।

সাবেক কনজারভেটিভ এমপি স্যার কনর বার্নসও ইয়াইরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তার মতে, এ ধরনের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ও দেশটির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে ফকল্যান্ড যুদ্ধও হয়েছিল। যুদ্ধের পর দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ ব্রিটেনের কাছেই রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা এখনো ফকল্যান্ডের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি করে আসছে।

এদিকে ইয়াইর নেতানিয়াহু ইসরায়েল সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই। ফলে তার বক্তব্যকে সরাসরি ইসরায়েল সরকারের সরকারি অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। ফকল্যান্ড নিয়ে ইয়াইরের মন্তব্যের বিষয়ে ইসরায়েল সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হয়নি।

তবে ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন গাজা ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। ফলে নেতানিয়াহুর ছেলের ফকল্যান্ড-সংক্রান্ত মন্তব্য নতুন করে ব্রিটিশ-ইসরায়েল সম্পর্কের রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

বিশেষ করে ব্রিটিশ ডানপন্থী মহলের একটি বড় অংশ ঐতিহাসিকভাবে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থনশীল হওয়ায় ইয়াইরের মন্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া প্রকাশ্য বিরোধটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ আল জাজিরা, হারেৎজ ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

বিদেশি সহায়তা ও পাবলিক সম্প্রচারে ৯ বিলিয়ন ডলার কাটছাঁট অনুমোদন দিল মার্কিন সিনেট

যুক্তরাজ্যের লিভারপুল টাউন সেন্টারে আগুন!

ফুসফুস ক্যানসারের মৃত্যু ঝুঁকি অর্ধেক কমানোর ঔষধ আবিষ্কার