বাংলাদেশের মোটরস্পোর্টে নতুন ইতিহাস গড়েছেন আরহাম রহমান। ফর্মুলা ৪ গাড়ির একটি রেসে জয় তুলে নিয়ে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। আন্তর্জাতিক একক-আসনবিশিষ্ট মোটর রেসিংয়ে তার এই সাফল্য বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক।
১৪ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর কার্টিংয়ের মাধ্যমে আরহামের মোটরস্পোর্টে যাত্রা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই রেসিংয়ের প্রতি তার আগ্রহ পেশাদার ক্যারিয়ারের লক্ষ্যে পরিণত হয়। ২০২২ সালে তিনি এফআইএ মোটরস্পোর্টস গেমসে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।
২০২৩ সালে ফর্মুলা ৪-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা গ্রহণ করতে পারেননি আরহাম। তবে সেই ব্যর্থতা তাকে থামাতে পারেনি। তিনি কার্টিং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সিমুলেটর রেসিং চালিয়ে নিজের দক্ষতা ধরে রাখেন।
২০২৫ সালে বাংলাদেশের জাতীয় কার্টিং চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতার আরও বড় প্রমাণ দেন তিনি। এরপর প্রথমবারের মতো এফআইএ ফর্মুলা ৪ গাড়ি পরীক্ষা করার সুযোগ পান। সেই পরীক্ষার পর আন্তর্জাতিক একক-আসনবিশিষ্ট রেসিংয়ে তার সামনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে যায়।
ফর্মুলা ৪ রেসে জয় পাওয়ার মাধ্যমে সেই যাত্রাই এখন নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই অর্জনের ফলে বাংলাদেশের পতাকা আন্তর্জাতিক ফর্মুলা রেসিংয়ের মঞ্চে আরও দৃশ্যমান হয়েছে।
তবে আরহামের পথচলায় সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি ছিল অর্থের সংকট। পেশাদার মোটর রেসিংয়ে অংশ নিতে গাড়ি, প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই ব্যয় সামাল দিতে তাকে বিকল্প পথও বেছে নিতে হয়েছে। নিজের রেসিং ক্যারিয়ারের জন্য অর্থ জোগাড় করতে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় একটি বার্গার রেস্তোরাঁয় কাজও করেছেন।
কার্টিং থেকে ফর্মুলা ৪—প্রতিটি ধাপেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছেন আরহাম। তার লক্ষ্য ফর্মুলা ৩-এ প্রতিযোগিতা করা। তবে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন আরও বেশি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ ও অর্থায়ন।
আরহামের সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের মোটরস্পোর্টের সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। তরুণ রেসারদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজন উন্নত রেসিং অবকাঠামো, নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্রশিক্ষণ এবং পৃষ্ঠপোষকতা। আরহাম নিজেও বাংলাদেশে তরুণ চালকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরছেন।
মাত্র কয়েক বছর আগেও আর্থিক সংকটের কারণে ফর্মুলা ৪-এর সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল। সেই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন ফর্মুলা ৪ রেসের বিজয়ী হওয়া আরহামের জন্য যেমন ব্যক্তিগত সাফল্য, তেমনি বাংলাদেশের মোটরস্পোর্টের জন্যও নতুন আশার জন্ম দিয়েছে। সামনে ফর্মুলা ৩—সেখানেই এবার নিজের এবং বাংলাদেশের পতাকার জন্য আরও বড় সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি।
সূত্রঃ বিএস
এম.কে

