যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়োগের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। আগামী ১ অক্টোবর থেকে অবৈধ কর্মীদের ফুড ডেলিভারি চালক কিংবা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কোনো নিয়োগকর্তা ধরা পড়লে, প্রতি অবৈধ কর্মীর জন্য সর্বোচ্চ ৬০ হাজার পাউন্ড জরিমানা অথবা পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
নতুন আইনের আওতায় যুক্তরাজ্যের সব নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা এবং দেশটিতে কাজ করার অনুমতি রয়েছে কি না—তা নিশ্চিত করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হবে। এতদিন প্রচলিত নিয়োগ ব্যবস্থায় অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে যে দায়িত্ব ছিল, নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ফুড ডেলিভারির মতো নমনীয় ও গিগ-ভিত্তিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে।
বিশেষ করে ফুড ডেলিভারি খাতে স্বনিযুক্ত বা নমনীয় কর্মব্যবস্থার সুযোগ ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করার যে অভিযোগ রয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় সেটির ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। অর্থাৎ শুধু প্রচলিত চাকরির ক্ষেত্রে নয়, কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন নমনীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নিয়োগকর্তাদের বৈধ কাজের অনুমতি যাচাই করতে হবে।
সরকারের যুক্তি, অবৈধভাবে কাজের সুযোগ বন্ধ করা যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য আকর্ষণ কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। একই সঙ্গে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসম প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
অবৈধ কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে অভিযান ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নির্মাণ খাতে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টের গ্রেপ্তার ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে বিতরণ ও ডেলিভারি সেবায় গ্রেপ্তার বেড়েছে ২১৭ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যানকে সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতে অবৈধ কর্মসংস্থান ও ব্যবস্থার অপব্যবহারের ব্যাপকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে সরকার। বিশেষ করে নির্মাণ এবং ডেলিভারি খাতে কর্মীদের পরিচয়, কাজের অনুমতি ও নিয়োগের ধরন যাচাই আরও কঠোর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকার বলছে, অবৈধ কর্মসংস্থান ঠেকাতে আইন প্রয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে ব্রিটিশ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর রাইট-টু-ওয়ার্ক বা কাজের অধিকার যাচাইয়ের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে।
এর ফলে নিয়োগকর্তাদের জন্য কর্মী নিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে কাজ করার অধিকার রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে শুধু প্রশাসনিক জরিমানাই নয়, গুরুতর ক্ষেত্রে কারাদণ্ডের ঝুঁকিও থাকবে।
নতুন বিধান বিশেষ করে সেইসব নিয়োগকর্তার ওপর চাপ বাড়াবে, যারা কর্মীদের সরাসরি প্রচলিত চাকরির চুক্তিতে না রেখে নমনীয় বা গিগ-ভিত্তিক ব্যবস্থায় কাজ করান। সরকারের লক্ষ্য হলো—কর্মসংস্থানের ধরন যাই হোক না কেন, যুক্তরাজ্যে কাজ করার বৈধ অনুমতি ছাড়া কেউ যেন কাজের সুযোগ না পায়।
সরকারের মতে, অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের সুযোগ বন্ধ করা হলে একদিকে অবৈধ অভিবাসনের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা কমবে, অন্যদিকে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ পাবে।
১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পরিবর্তনের ফলে ফুড ডেলিভারি ও নির্মাণ খাতসহ বিভিন্ন নমনীয় কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের ওপর নজরদারি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে রাইট-টু-ওয়ার্ক যাচাই কঠোর করার মাধ্যমে অবৈধভাবে কর্মী নিয়োগের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্রঃ হোম অফিস
এম.কে

