11.6 C
London
October 2, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৯ ফেসবুক পেজে মনিটাইজেশনঃ আয় যাচ্ছে কোথায়

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্তত ১৯টি ফেসবুক পেজে মনিটাইজেশনের সুযোগ চালু রয়েছে। এসব পেজের মধ্যে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং বিভিন্ন জেলা পুলিশের পেজ রয়েছে।

ভুয়া খবর ও অপতথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গবেষণার বরাতে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ফেসবুক পেজ মেটার কনটেন্ট মনিটাইজেশন কর্মসূচিতে যুক্ত হতে শুরু করে।

ডিসমিসল্যাবের তালিকায় থাকা ১৯টি পেজের মধ্যে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, বান্দরবানের পুলিশ সুপার এবং বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নওগাঁ, শেরপুর, লক্ষ্মীপুর, মাগুরা, নেত্রকোণা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মৌলভীবাজার ও কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের পেজ রয়েছে।

ফেসবুক ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট নতুন কনটেন্ট মনিটাইজেশন ব্যবস্থা চালু করে। এর মাধ্যমে ভিডিওর পাশাপাশি ছবি ও লিখিত পোস্ট থেকেও আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। ডিসমিসল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২টি পেজ এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে আরও সাতটি পেজ যুক্ত হয়েছে।

তবে এসব পেজ থেকে অর্জিত অর্থ কোথায় যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো কোনো পেজ মনিটাইজড হলেও সেখান থেকে এখন পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন করা হয়নি। আবার কয়েকটি সংস্থা মনিটাইজেশনের বিষয়টি অস্বীকারও করেছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. বশির আহমেদ জানিয়েছেন, তাদের ফেসবুক পেজে কিছু অর্থ জমা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোড না পাওয়ায় সেই অর্থ এখনো উত্তোলন করা হয়নি। তার ভাষ্য, আয় হলে তা কল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই পেজটি মনিটাইজ করা হয়েছিল।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জানিয়েছে, তাদের ফেসবুক পেজ এখনো মনিটাইজড হয়নি। সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট শাখার সাব-ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মনিটাইজেশনের চেষ্টা করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর প্রক্রিয়াটি আর এগোয়নি।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পেজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ২০২২-২৩ সালের দিকে পেজটি মনিটাইজড হয়েছিল। পরে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেখান থেকে কোনো আয় হচ্ছে না। তবে মেটার সহযোগী প্রকাশকদের তালিকা এবং ‘হোয়াট টু ফিক্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরে যুক্ত হওয়া মনিটাইজেশন কর্মসূচিটি এখনো সক্রিয় রয়েছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের পেজের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাও আয় হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে অর্থ উত্তোলনের ব্যবস্থা না করায় সেই অর্থ এখনো তোলা হয়নি বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের এআইজি এ. এইচ. এম. শাহাদাত হোসাইন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জনসেবা এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের একটি মাধ্যম। কোনো প্ল্যাটফর্ম থেকে মনিটাইজেশনের সুযোগ থাকলে এবং তা বিধি-বিধানের আওতায় থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই তা ব্যবহার করা হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বিধি-বহির্ভূতভাবে অর্থ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, মেটার নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলো আয়ের জন্য বিবেচ্য নয়। তবে ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৯টি ফেসবুক পেজে মনিটাইজেশনের সুযোগ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, ফিলিপিন্স, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পেজও মেটার মনিটাইজেশন কর্মসূচির আওতায় রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক সংস্থা ‘হোয়াট টু ফিক্স’ মনে করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আয় করার সুযোগ তাদের কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটির মতে, অনলাইনে বেশি সাড়া পাওয়ার সঙ্গে যদি আর্থিক প্রণোদনা যুক্ত হয়, তাহলে জননিরাপত্তা ও গোপনীয়তার পরিবর্তে অর্থনৈতিক লাভকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটনও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আয় করার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, আয়কে গুরুত্ব দিতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিসমিসল্যাবের গবেষণায় উঠে আসা তথ্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং মেটার নীতিমালা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই সরকারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফেসবুক পেজের মনিটাইজেশন থেকে অর্জিত অর্থের ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

সূত্রঃ হোয়াট টু ফিক্স\ডিসমিসল্যাব

এমকে

আরো পড়ুন

জনকণ্ঠে ‘র’-এর রহস্যময় সক্রিয়তা, সাংবাদিকদের চাকুরিচ্যুতি ও সংবাদ প্রচার বন্ধ

সত্যিই বিয়ে করেছেন সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, পাত্রী কে?

ছয় হলের ফল প্রকাশ, শীর্ষ তিন পদেই এগিয়ে শিবির