12.6 C
London
October 8, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

বিমান নিরাপত্তায় বড় ত্রুটির অভিযোগঃ ইসরায়েলের ভিসামুক্ত সুবিধা পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ব্যর্থ হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠার পর দেশটির নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা পুনর্বিবেচনা করার উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তাব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দল শিগগিরই ইসরায়েলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে মার্কিন প্রতিনিধি দল সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিমান চলাচল নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। এরপর তারা ইসরায়েলে গিয়ে দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে।

২০২৩ সালে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ফলে যোগ্য ইসরায়েলি নাগরিকরা সাধারণ ভিসা ছাড়াই অনলাইনে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন বা ইএসটিএর অনুমোদন নিয়ে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।

তবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ১০৭৩ নম্বর ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা ইসরায়েলের বিমান নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওই ফ্লাইটে সহ-পাইলট হামাম আল-হামামি মূল পাইলটের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিমানটিতে প্রায় ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন। পাইলট এবং কয়েকজন ইসরায়েলি যাত্রীর সাহসিকতায় হামলার চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং বিমানটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় বলে দাবি করা হয়েছে।

পরবর্তী তদন্তে হামলাকারী সহ-পাইলটের উগ্রপন্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসে। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল-কায়েদার প্রতি সমর্থনের ইতিহাস ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া চরমপন্থী কর্মকাণ্ডের কারণে ওমানে তাকে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, এমন ব্যক্তির বিষয়ে ইসরায়েলের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা যাচাই ও নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ছিল। অভিযোগ রয়েছে, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর বিমানকর্মীদের বিষয়ে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই করতে ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত এবং জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিমান নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আগে বিভিন্ন প্রস্তাব ও অতিরিক্ত বাজেটের সুপারিশ করেছিল। কিন্তু এসব প্রস্তাবের কিছু ইসরায়েলের পরিবহন মন্ত্রণালয় প্রত্যাখ্যান করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে হামলার ঘটনাটি সামনে আসার পর এখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। বিশেষ করে ভিসা ওয়েভার কর্মসূচির নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত ইসরায়েল যথাযথভাবে পূরণ করছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

পর্যালোচনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় গুরুতর ঘাটতি বা কর্মসূচির শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে ইসরায়েলের ভিসামুক্ত সুবিধা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

এমকে

আরো পড়ুন

উত্তেজনা বাড়িয়ে পাকিস্তানের বন্দরে ভিড়লো তুরস্কের যুদ্ধজাহাজ, উদ্বিগ্ন ভারত

মানবপাচার মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করবে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স

উপগ্রহ চিত্রে ধরা ইসরাইল, ধ্বংস ২০ যুদ্ধবিমান