TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের শাবানা মাহমুদের অভিবাসন নীতিতে ক্ষুব্ধ মন্ত্রীরাঃ বাড়তে পারে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের অভিবাসন ও আশ্রয়প্রার্থী সংক্রান্ত সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, নতুন নীতির কারণে কতসংখ্যক মানুষ গৃহহীন হতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সহকর্মী মন্ত্রীদের সরবরাহ না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য বিদ্যমান সহায়তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ফলে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা কতটা বাড়তে পারে, সে বিষয়ে একাধিকবার জানতে চাওয়া হলেও শাবানা মাহমুদ বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগের মন্ত্রীদের আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষ করে আবাসন, গৃহহীনতা এবং পরিচর্যা খাতের কর্মী সংকট মোকাবিলায় একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের সময় আবাসন ও গৃহহীনতা বিষয়ক মন্ত্রীরা নতুন অভিবাসন নীতির সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে সরিয়ে অন্য আবাসনে স্থানান্তর এবং আর্থিক সহায়তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের কারণে অনেকেই রাস্তায় থাকতে বাধ্য হতে পারেন।

এ বিষয়ে একজন সরকারি সূত্র বলেন, শাবানা মাহমুদের কাছে একাধিকবার জানতে চাওয়া হয়েছিল, তার মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অনুযায়ী নতুন পরিবর্তনের ফলে গৃহহীনতা ও সামাজিক সংহতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, প্রস্তাবগুলোর বিস্তারিত কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব কতটা হবে, তা এখনই হিসাব করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের দাবি, নতুন ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হবে, যাতে মানুষের চরম দারিদ্র্য ও গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমানো যায়।

চলতি মাসে প্রকাশিত সরকারের একটি প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে অবশ্য গৃহহীনতা বাড়ার আশঙ্কার কথা স্বীকার করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, আশ্রয়প্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তার অর্থ ফেরত নেওয়ার কারণে তাদের হাতে থাকা ব্যয়যোগ্য অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলে কেউ কেউ আর্থিক সংকট কিংবা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন। এর ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের গৃহহীনতা মোকাবিলা ও রাস্তায় বসবাসকারীদের সহায়তা কার্যক্রমের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।

শাবানা মাহমুদ গত বছরের নভেম্বরে আশ্রয়প্রার্থী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। তার পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) ব্যবস্থায় পরিবর্তন এবং যারা অন্যথায় চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারেন, তাদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা বাতিলের প্রস্তাব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তি, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং রিফর্ম ইউকের মতো কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা কমবে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব নেওয়ার পর বিরোধ আরও গভীর হয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান। ক্রিসমাসের মধ্যে রাস্তায় বসবাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার একটি সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এ লক্ষ্যে কয়েকশ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।

বর্তমান আবাসন মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনারও শাবানা মাহমুদের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। তার বিশেষ উদ্বেগ, আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেল থেকে সরিয়ে একাধিক ব্যক্তির যৌথ বসবাসের বাড়িতে (হাউসেস অব মাল্টিপল অকুপেন্সি) স্থানান্তর করা হলে ২০২৫ সালে এসেক্সের এপিংয়ে দেখা দেওয়া অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভের মতো পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে।

বৈধ অভিবাসন নীতি নিয়েও শাবানা মাহমুদের সঙ্গে রেনারের মতবিরোধ রয়েছে। বিশেষ করে পরিচর্যা খাতের কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন করার পরিকল্পনা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এর আগে অ্যান্ডি বার্নহ্যামও পরিচর্যা খাত থেকে কর্মীদের ব্যাপকভাবে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় তাদের জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নীতিকে সমর্থন করলেও একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে চান।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এমকে

আরো পড়ুন

হিথ্রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন নিয়ে জালিয়াতি ঘটনা ফাঁস

ব্রিটেনের নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতাঃ কর্মসংস্থান হারানো পুরুষ

যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে চমকপ্রদ রেল যাত্রাপথ, টিকেটের মূল্য ৩ পাউন্ড

নিউজ ডেস্ক