TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে থাকা ৯ হাজার ব্রাজিলীয়কে দেশে ফেরাতে ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ প্রদান

ব্রিটেনে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করা প্রায় ৯ হাজার ব্রাজিলীয় অভিবাসীকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ সহায়তা দিয়েছে হোম অফিস। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই বছরে ‘অ্যাসিস্টেড রিটার্নস স্কিম’-এর আওতায় মোট ২০ হাজার ৩৬৫ জনকে ব্রিটেন থেকে নিজ দেশে ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৯০১ জনই ব্রাজিলের নাগরিক।
ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া ব্যক্তি, ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী এবং ব্রিটেনে থাকার বৈধ অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফেরাতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভ্রমণ ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এই কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড। গত ছয় মাসের অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হলে মোট খরচ ৪ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার জন্য একজনকে গড়ে ১ হাজার ৯৬৪ পাউন্ড দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ডের সহায়তা সাধারণত পরিবার ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
ব্রাজিলের পাশাপাশি সরকারি অর্থ সহায়তায় নিজ দেশে ফিরেছেন ৩ হাজার ৬২৯ জন ভারতীয়, ৭৪৬ জন কলম্বিয়ান এবং ৪৬৮ জন হন্ডুরান।
তবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের মধ্যে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তথ্য অনুযায়ী, মাত্র সাতজন ইরিত্রীয়, ১১ জন সুদানি, ১৪ জন আফগান, তিনজন সোমালি এবং ৭৭ জন ইরানি এই সহায়তা গ্রহণ করে দেশে ফিরেছেন।
দ্য সানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কনজারভেটিভ সরকারের শেষ দুই বছরের তুলনায় লেবার সরকারের সময়ে এই ধরনের স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তনের হার প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলপ সরকারের এই নীতির সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের ব্রিটেন ছাড়ার জন্য অর্থ দেওয়া হলেও ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে অভিবাসীদের প্রবেশ ঠেকানোর মূল সমস্যা সমাধান হচ্ছে না।
ক্রিস ফিলপ আরও দাবি করেন, ছোট নৌকায় ব্রিটেনে আসা অভিবাসীদের মাত্র ৭ শতাংশ হারে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কনজারভেটিভ পার্টির প্রস্তাবিত নীতিতে অবৈধ অভিবাসীদের জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ব্রিটেন ছাড়তে উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ সহায়তার একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু করেছেন। প্রস্তাবটি এক সপ্তাহের জন্য কার্যকর এবং এতে সম্মত ব্যক্তিদের দেশে ফেরার বিমান টিকিটও দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
হোম অফিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরাকে উৎসাহিত করা হোটেল বা অন্যান্য আশ্রয় ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন রাখার কিংবা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর তুলনায় করদাতাদের জন্য বেশি সাশ্রয়ী।
হোম অফিস জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের সময়ে ব্রিটেনে থাকার কোনো বৈধ অধিকার নেই—এমন ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ছোট নৌকায় আসা ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর হারও প্রায় ৬৫ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে সরকার।
হোম অফিসের হিসাব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক ব্রিটেন থেকে ফেরত পাঠাতে প্রায় ৪৮ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা দিলে সেই ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং ব্যক্তিকে দেশে পৌঁছে দিতে সীমান্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাঠানোর প্রয়োজন হয় না।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তিন সদস্যের একটি অভিবাসী পরিবারকে আশ্রয় আবাসনে রাখার জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার পাউন্ড খরচ হতে পারে। সেই তুলনায় সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ডের স্বেচ্ছা-প্রত্যাবর্তন সহায়তা অনেক কম ব্যয়ের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ডের অর্থ সহায়তা সাধারণ যৌথ আবাসন ব্যবস্থায় একজন অভিবাসীর প্রায় তিন মাসের খরচের সমান।
হোম অফিস জানিয়েছে, স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার জন্য দেওয়া অর্থ ব্রিটেন ছাড়ার পর প্রি-পেইড ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
তবে এই ‘অ্যাসিস্টেড রিটার্নস স্কিম’ এবং কারাগার থেকে বিদেশি অপরাধীদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ‘ফ্যাসিলিটেটেড রিটার্নস স্কিম’ দুটি পৃথক কর্মসূচি।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ভুয়া নাম্বার প্লেট ব্যবহারে বাড়ছে অপরাধ

যুক্তরাজ্যে হ্যালিফ্যাক্স টাউন সেন্টারে ছুরিকাঘাতে একজনের মৃত্যু

ডাউনিং স্ট্রিটের লকডাউন পার্টির তদন্তে পুলিশ

অনলাইন ডেস্ক