ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন দুই সাংবাদিককে হয়রানি করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়লেও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে প্রসিকিউশনের যুক্তি গ্রহণ করেছে জুরি বোর্ড। আগামী ১৬ ডিসেম্বর তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
বিচার চলাকালে প্রসিকিউশন জানায়, ৪৩ বছর বয়সী রবিনসন, যার প্রকৃত নাম স্টিফেন লেনন বলে তিনি আদালতে জানিয়েছেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক অ্যান্ড্রু ইয়ং এবং ডেইলি মেইল-এর সম্পাদক জ্যাকব ডিরনহুবারকে ভয় দেখাতে ‘ভীতিপ্রদ কৌশল’ ব্যবহার করেছিলেন। এর ফলে দুই সাংবাদিককেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হয়।
মেইলঅনলাইন-এ রবিনসনকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই দুই সাংবাদিকের সমালোচনা করেন। প্রতিবেদনে তাদের সম্পৃক্ততার কারণেই তিনি এমন পোস্ট দিয়েছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়।
পরবর্তী সময়ে রবিনসন ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ করে দুই সাংবাদিকের বাসার ঠিকানা খুঁজে বের করেন। ডেইলি মেইল-এর প্রধান সম্পাদক টেড ভেরিটির বাসার ঠিকানাও খোঁজা হয়েছিল। প্রসিকিউশনের বক্তব্য, সাংবাদিকদের ভয় দেখানোই ছিল গোয়েন্দা নিয়োগের উদ্দেশ্য।
জুরি বোর্ড প্রসিকিউশনের এই যুক্তি গ্রহণ করে। আদালতে বলা হয়, রবিনসন অনলাইনে একজন সাংবাদিকের বাড়ির বাইরে তোলা ছবি এবং অন্য সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের ছবি আংশিকভাবে কেটে প্রকাশ করেছিলেন।
তবে ডেইলি মেইল প্রতিবেদন প্রকাশ করে তার পরিবারকে বিপদের মুখে ফেলেছিল—রবিনসনের এই দাবি জুরি বোর্ড গ্রহণ করেনি। বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দেওয়ার সময় সন্তানদের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট ও সরাসরি বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি রবিনসন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অ্যান্ড্রু ইয়ংকে ফোন করে আরও ভীতিপ্রদ আচরণ করেছিলেন বলে আদালতে জানানো হয়। ওই ফোনালাপে তিনি ইয়ংকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাকে খুঁজে বের করতে আসছি।’
এর আগে প্রসিকিউটর বেন হল্ট আদালতকে জানিয়েছিলেন, রবিনসনের এক্স অ্যাকাউন্টে ইয়ংয়ের স্ত্রী ও সন্তানদের ছবি প্রকাশের পর ডেইলি মেইল ওই সাংবাদিকের জন্য ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করে।
হয়রানির কারণে জ্যাকব ডিরনহুবারকে বাড়ি পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ডেইলি মেইল-এর আরেক সংবাদদাতা জর্জ ওডলিংও সহকর্মীদের ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি ও প্রচার নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন।
আদালতে রবিনসনের পাঠানো একটি ভয়েসমেইলও উপস্থাপন করা হয়। সেখানে এক সাংবাদিককে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের প্রত্যেকের অবস্থান ইতোমধ্যে খুঁজে বের করেছি।’
দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রবিনসনকে সাজা ঘোষণার আগ পর্যন্ত জামিন দেওয়া হয়েছে। আদালতের এই মামলায় সাংবাদিকদের হয়রানি করে সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি করার অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অপরাধটি বর্ণবাদী বা ধর্মীয় বিদ্বেষের কারণে সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
সূত্রঃ স্কাই নিউজ
এমকে

