যুক্তরাজ্যের অভিবাসন আইন প্রয়োগে ২০২৬ সালে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন, ওভারস্টে, অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা ভিসা আবেদনে জাল কাগজপত্র বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করলে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে পুনঃপ্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।
অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা, ভিসার অনুমতির বাইরে কাজ বা পড়াশোনা করা, সরকারি আর্থিক সুবিধা গ্রহণে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সেই সুবিধা নেওয়া, বৈধ অনুমতি ছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা কিংবা যেকোনো অভিবাসন আবেদনে জাল নথি বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এমনকি আবেদন সফল না হলেও প্রতারণার অভিযোগের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ অভিবাসন আবেদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
হোম অফিসের নীতিমালা অনুযায়ী, ভিসার শর্ত ভঙ্গের পর নিজ খরচে স্বেচ্ছায় যুক্তরাজ্য ত্যাগ করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ১২ মাসের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা হতে পারে। বহিষ্কারের নোটিশ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে সরকারি খরচে দেশত্যাগ করলে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা এবং ছয় মাস পর সরকারি খরচে দেশত্যাগ করলে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে। এছাড়া সতর্কীকরণের ভিত্তিতে অপসারণের ক্ষেত্রেও পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞার বিধান রয়েছে।
সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে সরকারি খরচে বহিষ্কার বা অপসারণের শিকার হলে অথবা ভিসা আবেদনে জাল কাগজপত্র ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ১০ বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। এই সময়সীমা যুক্তরাজ্য ত্যাগের দিন থেকে গণনা করা হবে।
নতুন ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ১১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া পার্ট স্যুটেবিলিটি বিধিমালা এখন পারিবারিক ভিসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। ফলে স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং পিতা-মাতার ভিসা আবেদনেও অতীতের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে। এর আগে প্রযোজ্য পার্ট ৯ বিধিমালার পরিবর্তে এই নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।
হোম অফিস আরও স্পষ্ট করেছে, আগের মতো কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্রেস পিরিয়ড নেই। কেবল গুরুতর অসুস্থতার মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে সীমিত সুযোগ বিবেচনা করা হতে পারে। শুধু “ভুলে গিয়েছিলাম” বা “খেয়াল ছিল না”—এ ধরনের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হবে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এবং নতুন করে দেশটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন—এমন প্রত্যেকের উচিত নিয়মিত ভিসার মেয়াদ পরীক্ষা করা, ভিসার শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং কোনো পরিস্থিতিতেই জাল কাগজপত্র বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার না করা। কোনো জটিলতা দেখা দিলে ওভারস্টে করার আগে নিবন্ধিত অভিবাসন পরামর্শকের আইনি সহায়তা নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
নতুন নীতিমালার মাধ্যমে অভিবাসন ব্যবস্থায় আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার পাশাপাশি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। তবে প্রতিটি মামলায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান, ব্যক্তির পরিস্থিতি এবং প্রযোজ্য অভিবাসন নিয়মের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

