দেশের মন্ত্রিসভার পরিধি বাড়ানোর জোর গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক গতিশীলতা আনতে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে খুব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ সম্প্রসারণ হতে পারে বলে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে। সম্ভাব্য এই রদবদলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি এম. নাসের রহমান।
রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কাজের চাপ কমানো, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি বাড়ানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করতেই নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সম্ভাব্য তালিকায় তরুণ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সমন্বয় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আর সেই প্রেক্ষাপটেই এম. নাসের রহমানের নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারের স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এম. নাসের রহমানের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও উন্নয়নমুখী ভাবনা তাকে মন্ত্রিপরিষদের জন্য শক্ত অবস্থানে রেখেছে। তিনি দেশের সাবেক সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এবং সিলেট অঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম রূপকার প্রয়াত এম. সাইফুর রহমানের সন্তান। পারিবারিক রাজনৈতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তিনি দল ও অঞ্চলের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য মুখ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
বিশেষ করে চা শিল্প, পর্যটন ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে তার সম্পৃক্ততা ও আগ্রহ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতৃত্ব দেওয়ার ভূমিকাও আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে মন্ত্রিসভায় এম. নাসের রহমানের অন্তর্ভুক্তির গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মৌলভীবাজার সদর ও রাজনগর উপজেলাজুড়ে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, জেলার একজন প্রতিনিধির সরাসরি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত হওয়া দীর্ঘদিনের সমস্যা যেমন সড়ক যোগাযোগের সংকট, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান ও পর্যটনশিল্পের বিকাশে নতুন গতি আনবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ বলেন, ‘উনিই একমাত্র এমপি যিনি সব সময় আমাদের পাশে থেকেছেন। যদি তিনি মন্ত্রী হন, তাহলে মৌলভীবাজারের উন্নয়ন আরও দ্রুত হবে।’ অপর এক নেতা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘আমাদের এলাকা অনেকদিন বঞ্চিত। নাসের রহমান সাহেবের নিষ্ঠা ও কাজের গুণে তিনি এ সুযোগ পাওয়ার মতো প্রার্থী।’
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এবং সেখানে কারা স্থান পাচ্ছেন—তা পুরোপুরি নির্ভর করছে দল ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তের ওপর।
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, শেষ পর্যন্ত আলোচিত এই গুঞ্জন যদি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, মৌলভীবাজারের সার্বিক উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা দলের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

