12.1 C
London
June 11, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মস্কোতে এলন মাস্কের বাবার সঙ্গে টমি রবিনসনের সাক্ষাৎঃ যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে এলন মাস্কের বাবা এররল মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করার পর যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

টমি রবিনসন, যার আসল নাম স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন, সম্প্রতি মস্কোর একটি হোটেলে এররল মাস্কের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এলন মাস্ক নিজেও এর আগে বিভিন্ন সময়ে রবিনসনের প্রতি সমর্থনমূলক অবস্থান প্রকাশ করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ রয়েছে।

রবিনসন ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেন, তিনি রাশিয়ায় এসেছেন দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার জন্য এবং সেখানে একটি “সভ্য সমাজের” রূপ দেখতে চেয়েছেন। তবে তার এই বক্তব্য এবং রাশিয়া সফরকে ঘিরে যুক্তরাজ্যে সমালোচনা তীব্র হচ্ছে।

তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়াকে যুক্তরাজ্যের শত্রু হিসেবে দেখানোর প্রচলিত বর্ণনা এখন আর প্রাসঙ্গিক নয়। তবে ব্রিটিশ সরকার দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়াকে একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।

এই সফরের সময় রাশিয়ায় আরও কয়েকজন বিতর্কিত পশ্চিমা ব্যক্তিত্বের উপস্থিতির খবরও এসেছে, যা পশ্চিমা বিশ্বের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এরই মধ্যে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পূর্ববর্তী মন্তব্যের কারণে। তিনি এর আগে এলন মাস্ককে ইউকের রাজনীতিতে ডানপন্থী শক্তিকে উসকে দেওয়ার অভিযোগে সমালোচনা করেছিলেন। সেই প্রেক্ষাপটে মাস্ক পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন সদস্যের সঙ্গে রবিনসনের সাক্ষাৎ নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে যে, এই সম্পর্ক যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে কি না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎ ও সম্পর্ক যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশে ডানপন্থী আন্দোলনের অবস্থান আরও দৃশ্যমান করতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার, অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

রবিনসনের এই রাশিয়া সফর যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে তার নেতৃত্বে আয়োজিত বড় সমাবেশের পরই এসেছে, যেখানে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নামেন। তিনি অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং অর্থায়নের বিষয়েও বিভিন্ন দাবি করেছেন।

লেবার পার্টির প্রতিরক্ষা কমিটির সদস্য ক্যালভিন বেইলি এই ঘটনাকে “অত্যন্ত গুরুতর” বলে উল্লেখ করে বলেন, রাশিয়া রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি মাধ্যম হিসেবে পশ্চিমা ডানপন্থী ব্যক্তিত্বদের ব্যবহার করছে কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোতে এই সাক্ষাৎ শুধু ব্যক্তিগত সফর নয়, বরং যুক্তরাজ্য-রাশিয়া সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক ডানপন্থী রাজনীতি এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের নতুন বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনের ব্যস্ত রাস্তায় ষাঁড়ের আগমন – বাংলাদেশও অবাক!

স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে অবস্থান দৃঢ় করতেই অভিবাসীদের রুয়ান্ডায় প্রেরণ

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বিদেশ সফরে ইউক্রেনে ক্যামেরন