ভারতের আলোচিত ইউটিউবার ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ধ্রুব রাঠি আবারও সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত প্রতিবাদে তাকে অভিনেতা প্রকাশ রাজ ও ককক্রোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ ও উদ্বেগ তুলে ধরেন।
ধ্রুব রাঠি ভারতের একজন পরিচিত ইউটিউবার, রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও ভিডিও নির্মাতা। তার নিজের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তার শিক্ষাগত পটভূমি যন্ত্রকৌশলে; জার্মানিতে পড়াশোনা করার পর তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেন এবং অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানেও পড়াশোনা করেছেন। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যামূলক ভিডিও তৈরি করেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি পান।
ভারতের রাজনীতিতে ধ্রুব রাঠির পরিচিতির বড় একটি কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তার প্রকাশ্য সমালোচনা। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তাকে মোদি সরকারের অন্যতম পরিচিত সমালোচক হিসেবে বর্ণনা করা হয়। তবে তার রাজনৈতিক অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে—একসময় তিনি মোদির উত্থানকে সমর্থন করেছিলেন, পরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনামুখর হন।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধ্রুব রাঠির সরাসরি আগ্রহ দেখা যায়। ২৫ জুলাই ২০২৪ তিনি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ‘বাংলাদেশ ইজ বার্নিং’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন, বেকারত্ব, সহিংসতা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। ভিডিওটির শিরোনামেই শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের আন্দোলনে ধ্রুব রাঠি ঘটনাগুলো নিয়ে ভিডিও তৈরি করেছিলেন।
২০২৪ সালের বাংলাদেশের আন্দোলন প্রথমে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হলেও পরে তা বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের শেষ দিকে আন্দোলনের পরিধি বাড়তে থাকে এবং শেষপর্যন্ত শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়।
বাংলাদেশের সেই আন্দোলন নিয়ে ধ্রুব রাঠির ভিডিও ব্যাপক দর্শক পায়। তার প্রকাশিত ভিডিওর তথ্য অনুযায়ী, ‘বাংলাদেশ ইজ বার্নিং’ ভিডিওটি প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক মানুষ সেটি দেখেন।
২০২৬ সালের বর্তমান আন্দোলনে ধ্রুব রাঠির অবস্থানও মূলত ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও নির্বাচনসংক্রান্ত ইস্যুকে কেন্দ্র করে। ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কের সমাবেশে তিনি নির্বাচন কমিশনের এসআইআর কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন তোলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি সেখানে ‘সরকার পরিবর্তনের’ জন্য আসেননি।
সার্বিকভাবে, ধ্রুব রাঠিকে ভারতের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ইউটিউবার ও ভাষ্যকার হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, যিনি ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলি নিয়েও ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এমকে

