যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে এক মর্মান্তিক ঘটনায় সাবেক প্রেমিকের হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, দণ্ডিত এক মাদক ব্যবসায়ী বিস্ফোরক ডিভাইস নিয়ে জোরপূর্বক বাড়িতে প্রবেশ করে এই হামলা চালায়।
রোববার ভোরে শহরের ফ্রেঞ্চে উপশহরের স্টার্নকোর্ট রোড এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ৩৫ বছর বয়সী জো শ’ এবং তার ৪১ বছর বয়সী সাবেক প্রেমিক রায়ান কেলি নিহত হন। বিস্ফোরণের সময় আশপাশের ঘরবাড়ি কেঁপে ওঠে এবং একটি শিশুসহ আরও তিনজন আহত হন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তারা চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
পুলিশ জানায়, সকাল ৬টা ১৭ মিনিটে একটি ফোনকল আসে, যেখানে জানানো হয় কেলি জোর করে ৩৫ বছর বয়সী জো শ’র বাড়িতে প্রবেশ করেছে। মাত্র ১৩ মিনিট পরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের আগে কলকারী পুলিশকে জানান, হামলাকারীর কাছে বিস্ফোরক থাকতে পারে।
প্রতিবেশীরা জানান, বিস্ফোরণের আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই দম্পতির মধ্যে নিয়মিত ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ৭০ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়।
অ্যাভন ও সামারসেট পুলিশ জানিয়েছে, জো শ’-এর মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে, ঘটনার আগে দম্পতির মধ্যে একাধিক “ডমোস্টিক ভায়োলেন্সের” অভিযোগ থাকায় বিষয়টি পুলিশ তদারকি সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, হামলাকারী বাড়ির ভেতরে গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। যদিও পুলিশ এখনো বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে কিছু জানায়নি।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর পুলিশ ব্রিস্টলের স্পিডওয়েল এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালায়, যেখানে কেলি বসবাস করছিল বলে ধারণা করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, রায়ান কেলি পূর্বে মাদক সরবরাহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০১৫ সালে একটি মাদক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তিনি পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করেন।
পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ম্যাট এবস বলেন, “এই ভয়াবহ ঘটনার খবর মানুষকে স্তম্ভিত ও মর্মাহত করেছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এটি একটি হত্যাকাণ্ড এবং এ ঘটনায় অন্য কাউকে খোঁজা হচ্ছে না।”
তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পাশে থাকতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

