TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন অপব্যবহারের আসল কেন্দ্র কেয়ার খাত, ছোট দোকান নয়ঃ রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিবাসন অপব্যবহারের প্রকৃত চিত্র স্থানীয় ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নয়, বরং কেয়ার খাতের কিছু অসাধু নিয়োগদাতা ও নিয়োগ নেটওয়ার্কের ভেতরে লুকিয়ে রয়েছে।

 

ডেইলি ড্যাজলিং ডন-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রয়ডন সাউথের সংসদ সদস্য ক্রিস ফিল্প সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল রোডে ঘুরে স্থানীয় স্বাধীন মালিকানাধীন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কনভেনিয়েন্স স্টোরগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে অভিবাসন ইস্যু তুলে ধরেন। তবে প্রতিবেদনের দাবি, এ ধরনের রাজনৈতিক প্রচারণায় অভিবাসন ব্যবস্থার প্রকৃত সংকটের উৎস আড়াল হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কেয়ার খাতের কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিদেশে অবস্থানরত চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছে সার্টিফিকেট অব স্পনসরশিপ (সিওএস) অবৈধভাবে বিক্রি করেছে। একটি সিওএসের বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে ২০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে। এই অনিয়মের মাধ্যমে বহু অভিবাসী যুক্তরাজ্যে এলেও পরে তারা প্রতিশ্রুত চাকরি, কাজের শিফট কিংবা বেতন পাননি।

প্রতিবেদনে মানবিক বিপর্যয়ের একটি উদাহরণ হিসেবে ভারতীয় নাগরিক শাবিন শাজির মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদিত তার স্পনসর প্রতিষ্ঠান সোয়ান কেয়ার সলিউশনস লিমিটেড তাকে টানা এক বছর কোনো কাজের শিফট বা বেতন দেয়নি। ফলে বেঁচে থাকার জন্য তাকে দাতব্য সংস্থার সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়।

এছাড়া গ্যাংমাস্টার্স অ্যান্ড লেবার অ্যাবিউজ অথরিটি-র তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেয়ার খাতে বিপুলসংখ্যক স্পনসর লাইসেন্স বাতিল হওয়ার ফলে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান ও অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অনেকেই চাকরি হারিয়ে নতুন স্পনসর খুঁজতে বাধ্য হয়েছেন, আবার কেউ কেউ যুক্তরাজ্যে বৈধভাবে থাকার সুযোগ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে শুধু ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে আনা যথেষ্ট নয়। বরং কেয়ার খাতের করপোরেট প্রতিষ্ঠান, অসাধু স্পনসর এবং শোষণমূলক নিয়োগ নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত ও নজরদারি জোরদার করাই হবে অধিক ফলপ্রসূ পদক্ষেপ।

সূত্রঃ ডেইলি ড্যাজলিং ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

১৮ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণ করবে ব্রিটেন, সুখবর বাংলাদেশের জন্য

যুক্তরাজ্যের প্রতি ছয়জন কর্মীর একজন খাবার মিস করছেনঃ ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস

যুক্তরাজ্যে হত্যা মামলার প্রতিবাদে কর্মবিরতিতে পুলিশ সদস্যরা