18.6 C
London
June 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন শর্তঃ স্থায়ী বসবাসের আগে গুনতে হবে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য আরও কঠোর নীতি গ্রহণ করছে সরকার। নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিল অনুযায়ী, যারা আশ্রয় পাওয়ার পর আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন, তাদের রাষ্ট্রের অর্থায়নে পাওয়া জীবনযাপনের ব্যয়ের বিপরীতে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ না করলে তারা যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (সেটেলমেন্ট) পাবেন না।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্টে উত্থাপিত হতে যাওয়া অভিবাসন ও আশ্রয় বিলে এই প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের দাবি, আশ্রয় সহায়তা একটি অধিকার হলেও আর্থিকভাবে সক্ষম হয়ে গেলে সেই সহায়তার ব্যয়ের একটি অংশ রাষ্ট্রকে ফিরিয়ে দেওয়া ন্যায্য।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, “আশ্রয় সহায়তা পাওয়া একটি অধিকার, তবে এটি একটি দায়িত্বও। যখন কেউ সক্ষম হবে এবং ব্রিটিশ জনগণের উদারতার প্রতিদান দিতে পারবে, তখন আমরা আশা করি তারা সেই অবদান রাখবে।”

স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, একজন সফল আশ্রয়প্রার্থীর কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড আদায় করা হতে পারে। তবে এই অর্থের পরিমাণ প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তনের ক্ষমতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে থাকবে। যাদের পর্যাপ্ত আয় রয়েছে বলে বিবেচিত হবে, তাদের নির্ধারিত হারে অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং সম্পূর্ণ অর্থ শোধ না করা পর্যন্ত তারা স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।

সরকারের এই উদ্যোগ এমন সময় নেওয়া হচ্ছে, যখন আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন ও ভরণপোষণে বছরে প্রায় ৪০০ কোটি পাউন্ড ব্যয় কমানোর জন্য লেবার সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ রয়েছে।

তবে প্রস্তাবটি প্রকাশের পরপরই মানবাধিকার ও শরণার্থী সহায়তা সংস্থাগুলো তীব্র সমালোচনা করেছে। রিফিউজি কাউন্সিলের বহির্বিষয়ক পরিচালক ইমরান হুসেইন বলেন, যুদ্ধ, নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষের ওপর এ ধরনের আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য এবং এটি কার্যত শরণার্থীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের শামিল।

তিনি আরও বলেন, আশ্রয়ের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরকার নিজেই আশ্রয়প্রার্থীদের কাজ করার অনুমতি দেয় না। ফলে তাদের অধিকাংশই রাষ্ট্রের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। পরে সেই সহায়তার অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য করা তাদের নতুন জীবন শুরু করাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

হেলেন ব্যাম্বার ফাউন্ডেশনের আবাসন ও কল্যাণবিষয়ক ব্যবস্থাপক জোই ডেক্সটারের ভাষ্য, এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত সমাধানের পরিবর্তে সরকারের একটি “প্রদর্শনমূলক কঠোরতা”। আশ্রয় ব্যবস্থা দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়ে এতে কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, এই পরিকল্পনা থেকে সরকারের আর্থিক লাভ খুব সীমিত হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন বলেন, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ বছর পর মাত্র ১৩ শতাংশ শরণার্থীর বার্ষিক আয় ২০ হাজার পাউন্ড বা তার বেশি। অধিকাংশই কম আয়ের অথবা কর্মহীন থাকেন। ফলে এই প্রকল্প থেকে সরকারের আয় তুলনামূলকভাবে খুবই কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই নীতি শরণার্থীদের চাকরিতে যোগদানে নিরুৎসাহিত করতে পারে। কেউ কেউ সরকারি আবাসন গ্রহণ না করে বিকল্প সহায়তা খোঁজার চেষ্টা করতে পারেন, আবার অনেকেই অতিরিক্ত আর্থিক চাপ এড়াতে কর্মসংস্থান থেকে দূরে থাকতে পারেন।

স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কোন আয়ের সীমার পর থেকে অর্থ পরিশোধ শুরু হবে, কীভাবে অর্থ আদায় করা হবে এবং অন্যান্য বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী বিধিমালার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

এদিকে নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় বিলে ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ, অভিবাসীদের বয়স নির্ধারণ প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা এবং আধুনিক দাসত্ববিরোধী আইনেও পরিবর্তন আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও আশ্রয় ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

গরমে লন্ডন জুড়ে যত্রতত্র অগ্নিকাণ্ড

অনলাইন ডেস্ক

মহামারি জুড়ে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রতি শুক্রবার চলেছে ‘ওয়াইন-টাইম’!

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটেনে ১৫ লাখ মানুষ প্রতিমাসে ৭৩৭ পাউন্ড সহায়তা পাচ্ছেন