কারাগারের অতিরিক্ত ভিড় মোকাবিলায় চালু করা আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার ৬৬ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জরুরি ভিত্তিতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়। এর কয়েক দিন আগে কারাগারগুলোতে বন্দির সংখ্যা রেকর্ড ৮৮ হাজার ৫২১ জনে পৌঁছায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নির্দিষ্ট মেয়াদের সাজাপ্রাপ্ত যোগ্য বন্দিদের ক্ষেত্রে সাজাের ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ শতাংশ ভোগ করার পর মুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে আরও প্রায় ৫ হাজার বন্দিকে আগাম মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হলেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেটি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জনমতের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় পরিকল্পনাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন।
আগাম মুক্তির পরিকল্পনা নিয়ে অপরাধের ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু হার্পারের স্ত্রী প্রকাশ্যে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার কয়েকজন ভুক্তভোগীও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের নির্যাতনকারীরাও আগাম মুক্তির সুযোগ পেতে পারেন।
বর্তমান আগাম মুক্তি কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের বিচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে। এর আগে রক্ষণশীল সরকারের পৃথক একটি কর্মসূচির আওতায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩২৫ জন বন্দিকে আগাম মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
বিচার মন্ত্রণালয়ের আরেকটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের কারণে ৫১ হাজার ৪১৯ জন বন্দিকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ২৮ শতাংশ বেশি এবং ২০১৫ সাল থেকে এটি সর্বোচ্চ।
বিচার মন্ত্রণালয়ের মতে, আগাম মুক্তি কর্মসূচিসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাবেই পুনরায় কারাগারে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে।
এদিকে বিরোধী রক্ষণশীল দল সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন কারাগার নির্মাণ এবং বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের পরিবর্তে সরকার সহজ সমাধানের পথ বেছে নিয়েছে। দলটির দাবি, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা ও গুরুতর সহিংস অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের কোনো অবস্থাতেই আগাম মুক্তির আওতায় আনা উচিত নয়।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিচার মন্ত্রণালয়ের দাবি, আগের সরকারের দীর্ঘ সময়ে কারাগারের সক্ষমতা পর্যাপ্ত হারে বাড়ানো হয়নি, যার ফলে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ৩ হাজার ২০০টি নতুন কারাগারের আসন যুক্ত করেছে, তদারকি ব্যবস্থায় ৭০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে এবং বিপজ্জনক অপরাধীদের কারাগারে রাখার সক্ষমতা আরও জোরদারে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
আগাম মুক্তি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে কি না এবং ভবিষ্যতে কোন ধরনের অপরাধীরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন, তা নিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আভাস মিলছে।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

