TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ার আশঙ্কাঃ জাঙ্ক ফুড নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত

যুক্তরাজ্যে জাঙ্ক ফুড নিয়ন্ত্রণে কঠোর নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন বিলম্বিত করার চিন্তা করছে ক্ষমতাসীন লেবার সরকার। সুপারমার্কেটে পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারি সূত্র জানিয়েছে।
বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন খরচের চাপ তৈরি করবে, যা সরাসরি ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

সরকারি কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সুপারমার্কেট ও খাদ্য প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন। সেখানে জানানো হয়েছে, নতুন স্থূলতা-বিরোধী (অ্যান্টি-ওবেসিটি) বিধিনিষেধ—যার আওতায় ফলের দই, জুস, পাস্তা সসসহ বিভিন্ন পণ্য পড়বে—সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হতে পারে।

নতুন এই নীতিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে “নিউট্রিয়েন্ট প্রোফাইলিং মডেল (এনপিএম)” হালনাগাদ করা। এর মাধ্যমে ফল বা সবজি পিউরি বা ব্লেন্ড করলে যে “ফ্রি সুগার” তৈরি হয়, সেটিকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এর ফলে বহু প্রচলিত খাদ্যপণ্য “স্বাস্থ্যকর” তালিকা থেকে বাদ পড়ে “অস্বাস্থ্যকর” হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই নতুন শ্রেণিবিন্যাস কার্যকর হলে রাত ৯টার আগে এসব পণ্যের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হবে। বর্তমানে এই নিষেধাজ্ঞা মূলত চিপস, মিষ্টি ও বিস্কুটের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে হাজার হাজার অতিরিক্ত পণ্য এই সীমার মধ্যে চলে আসবে।

সরকারের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, এই পরিবর্তন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের বছরে প্রায় ১৬৫ মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে। যদিও এই হিসাবে পণ্যের রেসিপি পরিবর্তনের খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়, যা আরও বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

খাদ্য শিল্প সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, এই নিয়ম কার্যকর হলে উৎপাদকদের পণ্যের উপাদান পরিবর্তন করতে বাধ্য হতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, পাস্তা সস থেকে টমেটো পিউরি বা দই থেকে ফল কমিয়ে কৃত্রিম উপাদান ব্যবহারের প্রবণতা বাড়তে পারে।

বিভিন্ন সুপারমার্কেট প্রধানরা ইতোমধ্যে সরকারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ সাপ্তাহিক বাজার খরচ বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি খাতটির ওপর “অসম ও ভারী বোঝা” চাপিয়ে দেবে।

এদিকে সরকার পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং সংক্রান্ত নতুন কর বা ‘এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি’ (ইপিআর) নিয়েও পুনর্বিবেচনা করছে। এই কর বাতিল করা হলে খুচরা বিক্রেতাদের প্রায় ১.৬ বিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত খরচ কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডাউনিং স্ট্রিটের ভেতরের সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জাঙ্ক ফুড নিয়ন্ত্রণে নতুন নিয়ম বিলম্বিত করার বিষয়ে নীতিগত সমর্থন রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ।

স্বাস্থ্য বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বর্তমান খাদ্য শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি আধুনিক পুষ্টি পরামর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, তাই এটি হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

অপরাধচক্রের নতুন টার্গেট যুক্তরাজ্যের ভাড়াবাসাঃ বাড়ছে হোয়াইটচ্যাপেলে চুরিও

রেকর্ড সংখ্যক এনএইচএস কর্মীর পদত্যাগ

অনলাইন ডেস্ক

অভিবাসন নিয়ে কনজারভেটিভ সরকারের উপর দলীয় সাংসদদের চাপ