ব্রিটেনে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময় ই-গেটে পাসপোর্ট স্ক্যান করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন ‘কন্ট্যাক্টলেস বর্ডার’ ব্যবস্থায় ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের মুখের ছবি শনাক্ত করেই সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বার্মিংহাম ও ইস্ট মিডল্যান্ডস বিমানবন্দরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা চালু হতে পারে। পরে আগামী বছরের শুরুর দিকে বার্মিংহাম, ব্রিস্টল, কার্ডিফ, এডিনবরা, গ্যাটউইক, গ্লাসগো, হিথ্রো, লন্ডন সিটি, লুটন, ম্যানচেস্টার, নিউক্যাসল ও স্ট্যানস্টেডসহ যেসব বিমানবন্দরে ই-গেট রয়েছে, সেগুলোতে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে যাত্রীদের বিমান ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট সঙ্গে রাখতে হবে। বিমানবন্দরে চেক-ইন ও বিমানে ওঠার ক্ষেত্রে পাসপোর্টের প্রয়োজন থাকবে। নতুন ব্যবস্থাটি বর্তমানে ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের জন্য চালুর কথা থাকলেও পরবর্তী সময়ে ই-গেট ব্যবহারের যোগ্য বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও এর আওতায় আনা হতে পারে।
বর্ডার ফোর্সের মহাপরিচালক ফিল ডগলাস জানিয়েছেন, নতুন প্রযুক্তি সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের গতি প্রায় ২৫ শতাংশ বাড়াতে পারে। তার মতে, এতে সীমান্ত আরও নিরাপদ হওয়ার পাশাপাশি বিমানবন্দরে যাত্রীদের চলাচল দ্রুত হবে।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিদিন যুক্তরাজ্যে আসা ব্রিটিশ যাত্রীদের পাসপোর্টের ছবি সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো বর্ডার কন্ট্রোলে পাঠাবে। বিমানবন্দরে ক্যামেরার মাধ্যমে যাত্রীর মুখ শনাক্ত করে সেই তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।
কোনো যাত্রীর মুখ ই-গেট শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে তাকে পাসপোর্ট স্ক্যান করতে বলা হবে। সেটিও ব্যর্থ হলে তাকে সরাসরি বর্ডার ফোর্সের কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে।
বর্তমানে ই-গেটে পাসপোর্টের চিপ নোংরা থাকা কিংবা যাত্রী সঠিকভাবে পাসপোর্ট মেশিনে না ধরার মতো কারণে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার কারণে তৈরি হওয়া দীর্ঘ অপেক্ষা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তবে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে গোপনীয়তা ও নির্ভুলতা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। গোপনীয়তা অধিকারকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রযুক্তিটি ভুল শনাক্তকরণ করতে পারে এবং পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা না থাকলে যুক্তরাজ্যে নজরদারি ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পুলিশ, স্যান্সবারিজ ও রেভলুটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এরই মধ্যে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। লন্ডনে পুলিশের ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি নিয়ে ভুল শনাক্তকরণের ঘটনাও সামনে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে লন্ডনে মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে ভুলভাবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৮০ শতাংশ ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ—এমন দাবি করেছে বিগ ব্রাদার ওয়াচ। সংগঠনটি সতর্ক করেছে, এই প্রযুক্তি নারী ও বিভিন্ন বর্ণের মানুষের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক ফল দিতে পারে।
মে মাসে বায়োমেট্রিকস ও নজরদারি ক্যামেরা কমিশনারও প্রযুক্তিটিকে পুরোপুরি নির্ভুল নয় বলে সতর্ক করেছিলেন। ভুলভাবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।
সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এমকে

