যুক্তরাজ্যে অভিভাবকহীন “শিশু অভিবাসী” পরিচয়ে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ প্রকৃতপক্ষে প্রাপ্তবয়স্ক বলে শনাক্ত হয়েছে। কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিলের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পুনর্মূল্যায়ন করা ১৯ জনের মধ্যে ১০ জনকে শেষ পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং শিশু সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকাশিত এ পরিসংখ্যান বলছে, সন্দেহের ভিত্তিতে পুনরায় বয়স নির্ধারণ পরীক্ষায় পাঠানো এসব ব্যক্তি প্রথমে নিজেদের ১৮ বছরের নিচে দাবি করেছিল। তাদের অনেককেই ফস্টার কেয়ার বা শিশু নিবাসে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল।
ব্রিটিশ বিরোধী দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প এ ঘটনাকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, প্রকৃত শিশুদের নিরাপত্তা এতে হুমকির মুখে পড়ছে। তার দাবি, অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে স্পষ্টভাবে প্রাপ্তবয়স্ক চেহারার ব্যক্তিরাও নিজেদের শিশু দাবি করেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লেবার সরকারের নতুন সীমান্ত আইন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনের ফলে বয়স নির্ধারণ পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানালেও কাউকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে বিবেচনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
ইংল্যান্ডের ডোভার উপকূল ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত। এ কারণে কেন্ট কাউন্টি কাউন্সিলের ওপর বিপুলসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক দাবিদার অভিবাসীর দায়িত্ব এসে পড়ে। ২০২৫ সালে কাউন্সিলটির তত্ত্বাবধানে মোট ২ হাজার ৬৫৬ জন শিশু অভিবাসী ছিল বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, বয়স যাচাইয়ের জন্য বর্তমানে শক্তিশালী প্রক্রিয়া চালু রয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে “ফেসিয়াল এজ এস্টিমেশন” প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে।
অন্যদিকে ব্যাংক হলিডের সপ্তাহে আবারও ছোট নৌকায় করে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত অন্তত ৯০৮ জন পৌঁছেছে। সোমবারও আরও বহু অভিবাসীকে ডোভারে নিয়ে আসা হয়। ফলে ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত ছোট নৌকায় আগত অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ সরকার চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ফ্রান্সের সঙ্গে ৬৬২ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি চুক্তি করে। এর আওতায় ফরাসি উপকূলে অতিরিক্ত টহল ও নজরদারি জোরদারের কথা বলা হয়। তবে এত অর্থ ব্যয়ের পরও অভিবাসী প্রবাহ কমেনি বলে সমালোচনা উঠেছে।
ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্প অভিযোগ করেন, ভালো আবহাওয়া সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে। অন্যদিকে নাদিম জাহাওয়ি বর্তমান পরিস্থিতিকে “জাতীয় জরুরি অবস্থা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ছোট নৌকায় অভিবাসন, বয়স যাচাই বিতর্ক এবং শিশু সুরক্ষার প্রশ্ন এখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য সান
এম.কে

