TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের মাত্র ৭ শতাংশ বহিষ্কার হয়ঃ রিপোর্ট

যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কারের হার নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে যুক্তরাজ্য থেকে বহিষ্কার বা ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশই ছোট নৌকায় দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। এই তথ্য প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের অভিবাসন নীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর চাপ আরও বেড়েছে।

সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সরকার জানায়, ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ১২ মাসে স্বেচ্ছায় বা বাধ্যতামূলকভাবে প্রায় ৩৯ হাজার অভিবাসীকে যুক্তরাজ্য থেকে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে ছোট নৌকায় আগত অভিবাসীর সংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার ৭০০, যা মোট বহিষ্কারের মাত্র ৭ শতাংশ।

একই সময়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন ৩৯ হাজার ২৭১ জন অভিবাসী। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো অভিবাসীদের মধ্যে মাত্র প্রায় আট হাজার ৪০০ জনকে অন্য দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে, যা মোট আগমনের মাত্র ৪ শতাংশ।

প্রকাশিত পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, বহিষ্কৃতদের একটি অংশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সময় ফ্রান্সের সঙ্গে করা ‘একজন ফেরত, একজন গ্রহণ’ চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ওই ব্যবস্থায় ফ্রান্সে একজন অভিবাসী ফেরত পাঠানোর বিনিময়ে যুক্তরাজ্যকে আরেকজন অভিবাসীকে গ্রহণ করতে হয়। সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত এক হাজার ৮৭ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হলেও একই সময়ে এক হাজার ১১৭ জনকে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি ফেরত পাঠানো কয়েকজন আবারও অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল রিফর্ম ইউকে এবং কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে। রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার কার্যত সীমান্ত উন্মুক্ত রেখেছে এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁদের দল ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত সব অবৈধ অভিবাসীকে আটক করে দ্রুত বহিষ্কার করা হবে।

কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিল্পও সরকারের সমালোচনা করে বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাজ্য মানবপাচারকারী চক্রের কাছে সহজ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। তার মতে, ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদ থেকে বেরিয়ে না এলে সব অবৈধ অভিবাসীকে দ্রুত বহিষ্কার করা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দায়িত্ব গ্রহণের পর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, বিদ্যুৎ বিল হ্রাস, বাসভাড়া কমানো এবং গৃহহীনতা দূর করার মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দিলেও অভিবাসন নীতি নিয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। যদিও তিনি শাবানা মাহমুদকে পুনরায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছেন এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার পেতে অভিবাসীদের অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করার প্রস্তাব বহাল রেখেছেন। তবে দলীয় সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, এসব পরিকল্পনায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে সরকার নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, বর্তমান মেয়াদে অবৈধভাবে অবস্থানকারী প্রায় ৭০ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে, যা আগের সরকারের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। সরকারের দাবি, ছোট নৌকায় পারাপার রোধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে, ছোট নৌকায় আগতদের বহিষ্কারের সংখ্যা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আশ্রয়ের আবেদনও ১২ শতাংশ কমেছে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ছোট নৌকায় আগমন অব্যাহত থাকা এবং বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে নতুন সরকার কী ধরনের নীতি গ্রহণ করে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধ প্রবেশ কমাতে সক্ষম হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সূত্রঃ ডেইলি মেইল

এম.কে

আরো পড়ুন

বার্মিংহাম হতে ১২ বছরের মোহাম্মদ নিখোঁজ, তথ্য দিতে পুলিশের আহ্বান

ইলন মাস্ক নাইজেল ফারাজের পরিবর্তে রিফর্ম পার্টির নতুন নেতা চান

যুক্তরাজ্য সরকারের সমালোচনার ঝড় বইছে হাউজ অব লর্ডসে