17.1 C
London
October 5, 2026
TV3 BANGLA
মুক্তমতযুক্তরাজ্য (UK)

সুয়েলা ব্রেভারম্যান নিজের অতীতকে অস্বীকার করে দাবি করছেন — বহুসংস্কৃতিবাদই ব্রিটিশ সমাজকে ভেঙে দিয়েছে

নাশীত রহমান || লন্ডন || ০৫ অক্টোবর ২০২৬

 

যুক্তরাজ্যের সাবেক হোম সেক্রেটারি সুয়েলা ব্রেভারম্যান বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। ব্রিটিশ সমাজে অভিবাসন, পরিচয় ও সমন্বয় নিয়ে যখন নতুন করে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময় তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে “বহুসংস্কৃতিবাদ ব্যর্থ হয়েছে”—যা তাঁর নিজের বহুমাত্রিক পারিবারিক পরিচয়ের কারণে আরও বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রেভারম্যানের ব্যক্তিগত পরিচয়ই ব্রিটিশ বহুসংস্কৃতিবাদের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি জন্মেছেন লন্ডনের হ্যারোতে। তাঁর মা কেনিয়ার গোয়া‑ক্যাথলিক বংশোদ্ভূত হলেও পরবর্তীতে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মরিশাসের তামিল হিন্দু বংশোদ্ভূত। দুই ভিন্ন মহাদেশ, দুই ভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং দুই ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের সমন্বয়ে গঠিত এই পরিবার ব্রিটিশ অভিবাসী ইতিহাসের একটি পরিচিত অধ্যায়। ব্রেভারম্যান নিজেও শিক্ষাজীবনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্ত ছিলেন; নিউ ইয়র্কে আইন বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে আরও একটি সাংস্কৃতিক স্তর যুক্ত হয়েছে—তিনি বিবাহিত একজন দক্ষিণ আফ্রিকান ইহুদি ব্যক্তির সঙ্গে, যিনি একসময় ইসরায়েলে বসবাস করেছেন।

 

এই বহুবর্ণ পরিচয়ের মধ্যেই ব্রেভারম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান আরও বিস্ময় সৃষ্টি করে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, আশ্রয়প্রার্থীদের সীমিত প্রবেশাধিকার এবং জাতীয় পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে তিনি বরাবরই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্রিটেনে বহুসংস্কৃতিবাদ এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায় নিজেদের আলাদা পরিচয়ে গড়ে তুলছে, কিন্তু বৃহত্তর ব্রিটিশ সমাজের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারছে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই বিচ্ছিন্নতা সামাজিক সংহতিকে দুর্বল করছে এবং জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

২০২৩ সালে সুয়েলা ব্রেভারম্যান যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের আয়োজিত একটি বক্তৃতায় বহুসংস্কৃতিবাদকে সরাসরি ব্যর্থ বলে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন যে ইউরোপে অতিরিক্ত অভিবাসন এবং অপর্যাপ্ত সমন্বয়ের কারণে সমাজে সমান্তরাল জীবনধারা তৈরি হয়েছে, যেখানে অভিবাসীরা সমাজের ভেতরে থেকেও বৃহত্তর জাতীয় পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারছে না। তাঁর বক্তব্য ছিল কঠোর এবং স্পষ্ট, এবং এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। তাঁর নিজের বহুমাত্রিক পারিবারিক পরিচয়—কেনিয়ান গোয়া‑ক্যাথলিক বংশোদ্ভূত মা, মরিশাসের তামিল হিন্দু বংশোদ্ভূত বাবা, নিউ ইয়র্কে শিক্ষাজীবন এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ইহুদি স্বামী—এই মন্তব্যকে আরও আলোচিত করে তোলে।

২০২৬ সালে তিনি আবারও অভিবাসন ও পরিচয় রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন, তবে এবার তিনি রিফর্ম ইউকে‑র রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কনজারভেটিভ সরকারের অভিবাসন নীতিকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন যে ব্রিটেন ভেঙে পড়েছে এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কনজারভেটিভ পার্টি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। যদিও তিনি ২০২৩ সালের মতো সরাসরি “বহুসংস্কৃতিবাদ ব্যর্থ হয়েছে” বাক্যটি ব্যবহার করেননি, তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম ছিল একই—বহুসংস্কৃতিবাদ সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে এবং কঠোর নীতি ছাড়া ব্রিটেনের সামাজিক সংহতি রক্ষা করা সম্ভব নয়। তাঁর এই অবস্থান রাজনৈতিক মহলে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগ তোলে, কারণ তিনি নিজেই কনজারভেটিভ সরকারের সময় কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম স্থপতি ছিলেন।

 

এই দুই সময়ের বক্তব্য মিলিয়ে দেখা যায়, ব্রেভারম্যান ধারাবাহিকভাবে বহুসংস্কৃতিবাদকে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরাসরি ব্যর্থতার কথা বলেন, আর ২০২৬ সালে তিনি ব্রিটিশ রাজনীতির ভেতর থেকে সেই অবস্থানকে আরও কঠোরভাবে পুনর্ব্যাখ্যা করেন। তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের এই বৈপরীত্যই তাঁকে নিয়ে বিতর্ককে আরও গভীর করেছে।

ব্রেভারম্যানের বহুসংস্কৃতিবাদের সম্পর্কিত বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁদের মতে, তাঁর নিজের পারিবারিক ইতিহাসই প্রমাণ করে যে বহুসংস্কৃতিবাদ ব্রিটেনে সফলভাবে কাজ করেছে। বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে গঠিত পরিবারে জন্ম নিয়ে তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন—যা বহুসংস্কৃতিবাদের শক্তিরই প্রতিফলন। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান মূলত অভিবাসন নীতিকে কঠোর করার বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশলের অংশ।

কনজারভেটিভ সরকারের সময় তিনি ছিলেন কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম মুখপাত্র—একজন স্পষ্টভাষী রাইট‑উইং রাজনীতিক, যাকে অনেকেই হকিশ অবস্থানের প্রতীক হিসেবে দেখেন। আশ্রয়প্রার্থী, ছোট নৌকা, রুয়ান্ডা পরিকল্পনা এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে তাঁর কঠোর অবস্থান ব্রিটিশ রাজনীতিতে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজেই সেই নীতিগুলোর সমালোচনায় মুখর হয়েছেন—যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে এক ধরনের দ্বৈত মানদণ্ড বা নীতিগত অসঙ্গতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ব্রেভারম্যান এখন রিফর্ম ইউকে‑র রাজনীতিতে সক্রিয়। নতুন রাজনৈতিক অবস্থান থেকে তিনি কনজারভেটিভ সরকারের অভিবাসন নীতিকে ব্যর্থ বলে দাবি করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কনজারভেটিভ হোম অফিস অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে, সীমান্ত সুরক্ষা দুর্বল ছিল, এবং কঠোর নীতি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব ছিল। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই নীতিগুলোর অনেকটাই তাঁর নিজের তৈরি বা তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল। ফলে আজ তাঁর সমালোচনা রাজনৈতিক সুবিধাবাদী অবস্থান ছাড়া অন্য কিছু নয়।

ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলে অনেকেই মনে করেন, তাঁর বর্তমান অবস্থান একটি স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ। কনজারভেটিভ সরকারের সময় তিনি যে নীতিকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছিলেন, আজ রিফর্ম ইউকে‑র রাজনীতিতে দাঁড়িয়ে সেই একই নীতিকে ব্যর্থ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাঁর সমালোচনায় কনজারভেটিভ সরকারের ভুলগুলো তুলে ধরা হলেও নিজের ভূমিকা বা দায়িত্বের প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের “one‑eyed policy”—যেখানে তিনি কেবল অন্যদের ব্যর্থতা দেখছেন, কিন্তু নিজের নীতিগত দায় স্বীকার করছেন না।

যুক্তরাজ্যের সাবেক হোম সেক্রেটারি সুয়েলা ব্রেভারম্যান দীর্ঘদিন ধরে কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর পূর্বসূরি প্রীতি প্যাটেলের মতো তিনিও একসময় কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পোষণ করেছিলেন। কিন্তু নেতৃত্ব নির্বাচনে পর্যাপ্ত সমর্থন অর্জনে তাঁকে ব্যর্থ হতে হয়। প্রীতি প্যাটেল এবং ব্রেভারম্যান—দু’জনই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কনজারভেটিভ পার্টির অভ্যন্তরীণ সমর্থন কাঠামো তাঁদের পক্ষে যায়নি। ফলে নেতৃত্বের দৌড়ে তাঁরা দু’জনই পরাজিত হন।

এই ব্যর্থতার পর ব্রেভারম্যানের রাজনৈতিক অবস্থান দ্রুত বদলে যায়। কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বে জায়গা না পাওয়ার হতাশা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক টিকে থাকার হিসাব‑নিকাশ তাঁকে নতুন পথ খুঁজতে বাধ্য করে। রবার্ট জেনরিকের মতো তিনিও শেষ পর্যন্ত কনজারভেটিভ পার্টি থেকে সরে এসে রিফর্ম ইউকে‑তে যোগ দেন। এই সিদ্ধান্ত আদর্শিক কোনো পরিবর্তনের ফল নয়; বরং এটি ছিল তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভ এবং আত্মরক্ষার কৌশল। কনজারভেটিভ পার্টিতে নেতৃত্বের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় তিনি এমন একটি প্ল্যাটফর্মে যোগ দিলেন যেখানে নিজের অবস্থানকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ বেশি।

 

ব্রেভারম্যানের এই পদক্ষেপ ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কনজারভেটিভ সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির অন্যতম স্থপতি হয়েও তিনি এখন সেই নীতির ব্যর্থতার কথা বলছেন এবং রিফর্ম ইউকে‑র কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করছেন। তাঁর অতীত নীতি এবং বর্তমান অবস্থানের এই বৈপরীত্যই রাজনৈতিক মহলে দ্বৈত মানদণ্ডের অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

ব্রিটেনে অভিবাসন ও পরিচয় রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই উত্তপ্ত। রিফর্ম ইউকে‑র উত্থান এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। ব্রেভারম্যানের অবস্থান সেই উত্তাপকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাঁর সমালোচনার ফলে কনজারভেটিভ পার্টির ভেতরেও প্রশ্ন উঠছে—কঠোর অভিবাসন নীতির ব্যর্থতা কি সত্যিই সরকারের, নাকি সেই নীতির স্থপতিদের? আর রিফর্ম ইউকে‑র সমর্থকরা বলছেন, ব্রেভারম্যানের অবস্থান প্রমাণ করে যে কনজারভেটিভ পার্টি অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

ব্রেভারম্যানের এই অবস্থান মূলত নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার কৌশল। কনজারভেটিভ সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে তিনি রিফর্ম ইউকে‑র কঠোর অভিবাসন নীতিকে আরও গ্রহণযোগ্য করতে চাইছেন। কিন্তু তাঁর অতীত ভূমিকা এই সমালোচনাকে জটিল করে তুলেছে। ফলে তাঁর বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে—যেখানে নীতির ধারাবাহিকতার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

 

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন রাজনীতি আগামী দিনে কোন পথে যাবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে সুয়েলা ব্রেভারম্যানের অবস্থান যে এই বিতর্ককে আরও গভীর করেছে, তা অনস্বীকার্য। তাঁর অতীত নীতি এবং বর্তমান সমালোচনার এই বৈপরীত্যই ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে—কঠোর নীতির ব্যর্থতা কি নীতির, নাকি সেই নীতির নির্মাতাদের? ব্রিটিশ সমাজে বহুসংস্কৃতিবাদ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত কয়েক দশকে অভিবাসন বৃদ্ধি, বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের বিস্তার এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই আলোচনাকে আরও জটিল করেছে। ব্রেভারম্যানের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আবারও উসকে দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য সমর্থনকারী অংশ বলছে, সামাজিক সংহতি রক্ষায় কঠোর নীতি প্রয়োজন। অন্যদিকে বিরোধীরা বলছেন, বহুসংস্কৃতিবাদ ব্রিটেনের শক্তি, দুর্বলতা নয়।

ব্রিটেনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে যাবে তা সময়ই বলে দেবে। তবে সুয়েলা ব্রেভারম্যানের বক্তব্য যে আবারও অভিবাসন ও পরিচয় রাজনীতিকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, তা স্পষ্ট। তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় এবং রাজনৈতিক অবস্থানের এই বৈপরীত্যই বর্তমান বিতর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করে তুলেছে।

 

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ১৬ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধে লেবার এমপিদের আহ্বান

যুক্তরাজ্যে “প্রাণঘাতী অ্যালার্জি ঝুঁকিতে ওয়েটরোজের রেডি ফুড”, ফেরত নেওয়ার নির্দেশ”

যুক্তরাজ্যে ৯ সেক্টরে স্কিলড ওয়ার্কারের প্রয়োজন