TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নতুন উদ্যোগঃ জানুয়ারি থেকে ২ পাউন্ড বাসভাড়া

জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় কমাতে একাধিক জনবান্ধব উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এর মধ্যে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ইংল্যান্ডজুড়ে স্থানীয় বাসের একমুখী ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা আবারও ২ পাউন্ডে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত অন্যতম। একই সঙ্গে অক্টোবরে বিদ্যুৎ বিলের ওপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাতিলের পরিকল্পনাও সামনে এনেছে সরকার, যাতে পরিবারগুলো কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পায়।

সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে কার্যকর ৩ পাউন্ডের সর্বোচ্চ বাসভাড়া কমিয়ে ২ পাউন্ড করা হবে। ২০২৩ সালে কনজারভেটিভ সরকারের সময় সারা ইংল্যান্ডে ২ পাউন্ড ভাড়া চালু হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালে সেই সীমা বাড়িয়ে ৩ পাউন্ড করা হয়। এবার নতুন সরকার তা পুনরায় ২ পাউন্ডে ফিরিয়ে আনছে। ম্যানচেস্টরের মেয়র থাকাকালে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম তার ‘বি নেটওয়ার্ক’-এ একই ধরনের ২ পাউন্ড ভাড়া চালু করেছিলেন।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকারকে অবশ্যই “জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর সরকার” হিসেবে কাজ করতে হবে। আগামী বাজেটের আগে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান। তবে তিনি স্বীকার করেন, এসব উদ্যোগ সব সমস্যার সমাধান করবে না, কিন্তু মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হবে।

বাসভাড়া কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলেও স্বস্তি দিতে অক্টোবরে বিদ্যুৎ বিলে থাকা ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে যুক্তরাজ্যের প্রতিটি পরিবার বছরে গড়ে প্রায় ৪৫ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকারের হিসাব। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপ শুধু পরিবারের ব্যয় কমাবে না, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরে এই নীতির ব্যয় হবে প্রায় ৮৫ কোটি পাউন্ড। এই অর্থ ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ডিজিটাল আইডি) কর্মসূচি বাতিলের মাধ্যমে সাশ্রয় করা অর্থ থেকে জোগান দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জন হিলি বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনেক পরিবার জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে রয়েছে। বিদ্যুৎ বিলে কর কমানোর ফলে শীতের আগে মানুষ কিছুটা আর্থিক স্বস্তি পাবে এবং একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও কমাতে সহায়তা করবে।

তবে সরকারের এই অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ড্যারেন জোনস। তার দাবি, ডিজিটাল আইডি কর্মসূচির জন্য আগে থেকেই কোনো অর্থ বরাদ্দ ছিল না। ফলে সেই প্রকল্প বাতিল করে নতুন উদ্যোগের ব্যয় কীভাবে মেটানো হবে, তা সরকারকে আসন্ন বাজেটে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

এদিকে গত বছরের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটির অর্থনৈতিক ও রাজস্ব পূর্বাভাসেও ডিজিটাল আইডি কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট অর্থায়নের কোনো উৎস উল্লেখ ছিল না। ফলে সরকারের ঘোষিত ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং নতুন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলোর অর্থায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।

সূত্রঃ দ্য সান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের অবৈধ ডেলিভারি চাকুরি নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসীতে জর্জরিত ক্যাফে ডায়ানা, পড়েছে লাইসেন্স ঝুঁকিতে

চেলসি বিক্রি করে দিচ্ছেন আব্রাহামোভিচ