21.6 C
London
August 28, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে তরুণ প্রজন্মে কমছে অতিরিক্ত মদ্যপানঃ বদলাচ্ছে ব্রিটেনের পানীয় সংস্কৃতি

ব্রিটেনে মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ে বড় পরিসরের এক গবেষণায় প্রজন্মভেদে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যের চিত্র উঠে এসেছে। ১৭ লাখ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তরুণদের তুলনায় ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে সপ্তাহে সরকারের সুপারিশ করা সীমার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল পান করার প্রবণতা বেশি। বিশেষ করে ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের ৭৮.৭ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা সপ্তাহে ১৪ ইউনিট বা তার কম অ্যালকোহল পান করেন। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সপ্তাহে ১৪ ইউনিটের বেশি নিয়মিত পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিবেদনের হিসাবে, ১৪ ইউনিট অ্যালকোহল প্রায় ৪ শতাংশ মাত্রার ছয় পাইন্ট ল্যাগার বা ছয়টি মাঝারি গ্লাস ওয়াইনের সমপরিমাণ।

তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সীমা অতিক্রম করার প্রবণতাও বেড়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৪০-এর দশকের পুরুষ ও নারীরা ৪০ বছরের নিচের প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় সুপারিশকৃত সীমা অতিক্রম করার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশের বেশি সম্ভাবনাময়। তাদের মধ্যে নিয়মিত এবং তুলনামূলক বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণের প্রবণতা দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির চিত্র পাওয়া গেছে ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী মানুষের মধ্যে। এই বয়সী জনগোষ্ঠীর ২৮ শতাংশকে ‘ইনক্রিজিং রিস্ক’ বা বাড়তে থাকা ঝুঁকির শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। বিপরীতে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার ১২.৬ শতাংশ এবং ৪০-এর দশকের মানুষের মধ্যে ১৯ শতাংশ।

শুধু নিয়মিত সীমার বেশি পান নয়, সর্বোচ্চ ঝুঁকির মাত্রাতেও ৬০-এর দশকের মানুষ এগিয়ে রয়েছেন। গবেষণার শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, সপ্তাহে নারীদের ৩৫ ইউনিটের বেশি এবং পুরুষদের ৫০ ইউনিটের বেশি অ্যালকোহল পানকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির পর্যায় হিসেবে ধরা হয়েছে। ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের ৩.১ শতাংশ এই শ্রেণিতে পড়েছেন।

তবে ৬৯ বছর বয়সের পর এই প্রবণতা আবার কিছুটা কমতে শুরু করে। যদিও তা ৪০ বছরের নিচের বয়সী মানুষের তুলনায় এখনও বেশি থাকে। অন্যদিকে তরুণরাই সবচেয়ে বেশি জানিয়েছে যে তারা অ্যালকোহল শুধুমাত্র বিশেষ অনুষ্ঠানে পান করে অথবা একেবারেই পান করে না।

গবেষণায় আয়ের সঙ্গেও মদ্যপানের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ হাজার পাউন্ডের কম বার্ষিক আয় করা পরিবারের ১৫.৩ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে ১৪ ইউনিটের বেশি অ্যালকোহল পান করার কথা জানিয়েছেন। বিপরীতে ১ লাখ পাউন্ডের বেশি আয় করা পরিবারের ক্ষেত্রে এই হার ২৫.৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অঞ্চলভেদেও পার্থক্য রয়েছে। নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ডে ‘হায়ার রিস্ক’ এবং ‘ইনক্রিজিং রিস্ক’—দুই শ্রেণির মদ্যপায়ীর হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। এরপর রয়েছে ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড দ্য হাম্বার। বিপরীতে ইস্ট অব ইংল্যান্ডে এই দুই ঝুঁকি শ্রেণিতে থাকা মানুষের হার সবচেয়ে কম।

গবেষকরা বলছেন, এত বড় জনগোষ্ঠীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণের ফলে বয়স, লিঙ্গ ও আয়ের সঙ্গে অ্যালকোহল গ্রহণের সম্পর্ক আরও স্পষ্টভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের অ্যালকোহল গবেষণা দলের সিনিয়র ভিজিটিং গবেষক রস ব্ল্যাকউডের মতে, এই তথ্য অ্যালকোহল গ্রহণের ধরন, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যগত প্রভাব, ঝুঁকি এবং সামাজিক বৈষম্য নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

গবেষণার অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো তরুণ প্রজন্মের মদ্যপানের আচরণ। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সুপারিশকৃত সীমার বেশি অ্যালকোহল গ্রহণের হার তুলনামূলকভাবে কম। বরং এই বয়সী মানুষের একটি বড় অংশ অ্যালকোহল বিশেষ অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ রাখে অথবা একেবারেই পান করে না।

এর বিপরীতে ৪০ থেকে ৬৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের মদ্যপানের অভ্যাসের প্রভাব এখনও দৃশ্যমান। ফলে ব্রিটেনে অ্যালকোহল গ্রহণের সংস্কৃতিতে প্রজন্মগত পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা নিয়েও গবেষণাটি নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে।

তবে গবেষণার ফলাফলকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না যে ৪০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক ব্যক্তি অতিরিক্ত মদ্যপান করেন বা তরুণরা অ্যালকোহল থেকে পুরোপুরি দূরে সরে গেছে। পরিসংখ্যান মূলত বিভিন্ন বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পান করার প্রবণতার তুলনা তুলে ধরেছে।

সামগ্রিকভাবে গবেষণার চিত্র বলছে, ব্রিটেনে অতিরিক্ত মদ্যপানের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বর্তমানে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত। বিশেষ করে ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের তথ্য স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তুলনামূলক কম মদ্যপানের প্রবণতা দেশটির ভবিষ্যৎ অ্যালকোহল-সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ধসে পড়ছে, ক্যান্সার রোগীরা মৃত্যুঝুঁকিতে

মঙ্গলবার থেকে ব্রিটেনের হাসপাতালগুলোতে করোনার টিকা পৌঁছাবে

ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফিরে পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী শামীমা বেগম

নিউজ ডেস্ক