17.9 C
London
August 31, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশযুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ইমামের ছদ্মবেশে জিনের খপ্পরঃ ভয় দেখিয়ে ৭ নারী-শিশুকে ধর্ষণ

ধর্মীয় পোশাকে আচ্ছাদিত এক পাশবিক পুরুষকে শেষ পর্যন্ত আইনের চোখে ধরা পড়েছে। পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন এলাকার বাসিন্দা আবদুল হালিম খান (৫৪) নামে এক ইমাম নারী ও শিশুদের ওপর চরম নৃশংসতা চালিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছেন। তিনি তার শিকারদের ভয় দেখাতেন যে, তিনি কোনো অদৃশ্য জিন বা ভূতে আক্রান্ত হয়ে আছেন অথবা রূপ বদলে ওই আত্মার বেশ ধারণ করেছেন।

 

সপ্তাহখানেক আগে স্নারেসব্রুক ক্রাউন কোর্টে এক রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে ন্যূনতম ২০ বছর জেল খাটতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক লেসলি কুথবার্ট। এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মোট ২১টি অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল নয়টি ধর্ষণ, চারটি যৌন নিপীড়ন, ১৩ বছরের কম বয়সী একটি শিশুর যৌন নিপীড়ন (দুইটি), ১৩ বছরের কম বয়সী পাঁচটি শিশুকে ধর্ষণ, এবং একটিতে ‘অ্যাসল্ট বাই পেনিট্রেশন’-এর অভিযোগ।

মোট সাতজন নারী ও কিশোরী এই ইমামের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের বয়স ছিল মাত্র ১২ থেকে ১৩ বছর। অপরাধের সময়কাল ২০০৪ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত—এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সে পাশবিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

বিচারকালে এক শিকার আদালতে পড়ে শোনানো অভিযোগপত্রে জানান, “খান কোনো মানুষ নয়, সে পিশাচের প্রতিমূর্তি। সে মিথ্যা ও ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছিল। ধর্মীয় লোকের ছদ্মবেশে সে লুকিয়ে ছিল।” আরেক শিকার বলেন, “সে আমার নিজের শরীরের ওপর হতে আমার নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছিল। আমাকে খাঁচাবন্দি করে রেখেছিল এবং আমাকে নীরব থাকতে বাধ্য করে। সে যতদিন বাঁচবে, সমাজের জন্য ততদিন আমার জন্য ভীতি হয়ে থাকবে।”

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, খান তার শিকারদের ফাঁকা ফ্ল্যাট, নিভৃত স্থানে বা নির্জন জায়গায় ডেকে নিয়ে যেত। সেখানে গিয়ে বলত, সে নিজে জিনের আক্রান্ত অথবা জিনের রূপ ধারণ করেছে। ‘কালো জাদু’র ভয় দেখিয়ে শিকারদের পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে ঘটনা গোপন রাখতে বাধ্য করত। ২০১৮ সালে সবচেয়ে কম বয়সী এক শিকার স্কুলের এক শিক্ষককে ঘটনা জানালে পুলিশের নজরে আসে। তবে সেই সময় তাকে গ্রেপ্তার করা গেলেও পুরো সত্য বেরোতে সময় লেগেছে বেশ কয়েক বছর। জিজ্ঞাসাবাদে খান এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এটি তার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র ও প্রতিশোধপরায়ণ মানুষের তৈরি করা গল্প।

বিচারক লেসলি কুথবার্ট রায় প্রদানের সময় বলেন, “পবিত্রতা ও ধর্মীয় আচরণের পেছনে লুকিয়ে তুমি নারীদের ওপর নৃশংস সুবিধা নিয়েছ, যারা তোমাকে বিশ্বাস করেছিল। এতটাই বেপরোয়া হয়েছিলে যে ভাবতে, তোমার সম্প্রদায়ের কেউ সম্ভাব্য লজ্জা ও কলংকের ভয়ে তোমার বিরুদ্ধে রিপোর্ট করবে না।”

তদন্তের প্রধান কর্মকর্তা ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, “শিকার-সারভাইভাররা অসাধারণ সাহস দেখিয়েছেন। এটি যে কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হোক তাদের জন্য একটি বার্তা যে, সাহায্য ও সমর্থন সবসময় আছে।”

এই রায়ের মাধ্যমে লন্ডনের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও পুরো যুক্তরাজ্যে ধর্মীয় পোশাকের আড়ালে চালানো এসব জঘন্য অপরাধের জন্য কঠোর বার্তা গেল বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

নিলামে উঠছে আ.লীগ এমপিদের ৩১টি বিলাসবহুল গাড়ি

বন্ধ হবে না একটিও ব্যাংকঃ গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর