যুক্তরাজ্যে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিন রাসায়নিক ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটিতে বসবাসরত এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী দাবি করেছেন, অপরাধীরা তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করে প্রায় ৩ হাজার পাউন্ড মূল্যের সোনার গহনা হাতিয়ে নিয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, পাশাপাশি এই রাসায়নিককে ঘিরে জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
জানা গেছে, নিকাব পরিহিত ওই নারী একা বাইরে বের হলে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তার সঙ্গে কথোপকথন শুরু করে। তারা ঠিকানা জানতে চাওয়া ও সাহায্যের অনুরোধের মতো স্বাভাবিক অজুহাতে তার কাছে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, কথাবার্তার এক পর্যায়ে তাকে এমন একটি রাসায়নিকের সংস্পর্শে আনা হয়, যার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে চিন্তা বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি নিজের পরা সোনার গহনা তাদের হাতে তুলে দেন। ঘটনার পর তার পুরো বিষয়টি স্পষ্টভাবে মনে ছিল না বলেও দাবি করা হয়েছে।
‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে পরিচিত স্কোপোলামিন মূলত চিকিৎসাবিজ্ঞানে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি ওষুধ। তবে এর অপব্যবহার নিয়ে বহু বছর ধরেই বিভিন্ন দেশে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রাসায়নিক মানুষের স্মৃতিশক্তি, বিচার-বিবেচনা ও প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শুধুমাত্র বাতাসে ভাসানো বা পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অতি সহজে কাউকে সম্পূর্ণ সম্মোহিত করে ফেলার দাবির পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তাই এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে স্কোপোলামিন ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা একাকী চলাফেরা করা নারী কিংবা দৃশ্যমানভাবে মূল্যবান গহনা পরা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানায়। তারা প্রথমে বন্ধুসুলভ আচরণ করে, ধর্মীয় বা আবেগঘন আলাপ শুরু করে অথবা কোনো কাগজ, রুমাল কিংবা অন্য কিছু দেখানোর অজুহাতে ভুক্তভোগীর খুব কাছে চলে আসে। এরপর বিভ্রান্তির সুযোগ নিয়ে টাকা, মোবাইল কিংবা গহনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্কোপোলামিনের প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে বিভ্রান্তি, তন্দ্রাভাব, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং পরবর্তীতে ঘটনার অংশবিশেষ মনে না থাকার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসমক্ষে অপরিচিত কেউ অস্বাভাবিকভাবে কাছে আসলে সতর্ক থাকা জরুরি। একা চলাফেরার সময় অতিরিক্ত মূল্যবান গহনা পরিধান না করা, কেউ মুখের সামনে রুমাল বা কাগজ ধরতে চাইলে দূরত্ব বজায় রাখা এবং জনাকীর্ণ স্থানে প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে আশপাশের মানুষের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত পুলিশকে জানানোও গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাজ্যে এ ধরনের ঘটনার শিকার হলে জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে এবং জরুরি নয় এমন ক্ষেত্রে ১০১ নম্বরে ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

