27.6 C
London
August 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে ১০ বছরের নিচের শিশুরাও উগ্রবাদের ঝুঁকিতেঃ ফেসবুকে সহিংসতার ভিডিওর প্রচারণা

যুক্তরাজ্য সরকারের সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ প্রতিরোধ কর্মসূচি ‘প্রিভেন্ট’-এ ১০ বছরের কম বয়সী শত শত শিশুকে রেফার করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে প্রিভেন্ট কর্মসূচিতে মোট ১০ হাজার ২৯৩টি রেফারেল করা হয়, যা ৯ হাজার ৯৫৭ জনকে নিয়ে করা হয়েছিল।

এই রেফারেলগুলোর মধ্যে ১০ বছরের কম বয়সী শিশু ছিল ৩৯৩ জন। একই সময়ে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী আরও ৩ হাজার ৬৫৫ শিশুকে প্রিভেন্ট কর্মসূচিতে রেফার করা হয়। পরিসংখ্যান প্রকাশের পর শিশুদের মধ্যে উগ্রবাদী কনটেন্টের বিস্তার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অল্প বয়সী শিশুরা এমন বিপুল পরিমাণ কনটেন্টের সংস্পর্শে আসছে, যার মধ্যে উগ্রবাদী প্রচারণা, সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রচারসামগ্রী এবং ব্যাপক সহিংসতার ভিডিও রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব কনটেন্ট দেখার ফলে শিশুদের মধ্যে সহিংসতার ভয়াবহতা সম্পর্কে স্বাভাবিক সংবেদনশীলতা কমে যেতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের কারণে একজন ব্যবহারকারী কোনো নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টে আগ্রহ দেখালে একই ধরনের আরও কনটেন্ট তার সামনে আসতে পারে। অল্প বয়সী ব্যবহারকারীরা এমন কনটেন্টের প্রকৃত ঝুঁকি বা উদ্দেশ্য বুঝতে না পারায় তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে।

উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোও অনলাইনে শিশু ও তরুণদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রচারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে থাকে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে আসছেন। সহিংসতার ভিডিও, চরমপন্থী মতাদর্শ এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে আকর্ষণীয় বা স্বাভাবিক হিসেবে উপস্থাপনের মাধ্যমে শিশুদের মানসিকভাবে প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রিভেন্ট কর্মসূচির আওতায় কোনো ব্যক্তি বা শিশুকে রেফার করা হয়েছে মানেই ওই ব্যক্তি সন্ত্রাসী বা উগ্রবাদী—এমন নয়। সাধারণত উগ্রবাদে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সহায়তা ও ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য কর্মসূচিটির আওতায় রেফার করা হয়। ফলে পরিসংখ্যানে থাকা প্রতিটি রেফারেলকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তবে ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রেও এমন রেফারেলের সংখ্যা সামনে আসায় শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে শিশুরা কী ধরনের ভিডিও দেখছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের সামনে কী ধরনের কনটেন্ট পৌঁছাচ্ছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে মোট ১০ হাজার ২৯৩টি রেফারেল এবং ৯ হাজার ৯৫৭ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার তথ্যটি প্রিভেন্ট কর্মসূচির আওতায় আসা মানুষের পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে অনলাইন উগ্রবাদ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শিশুদের সামনে বারবার সহিংসতা ও নৃশংসতার দৃশ্য উপস্থাপিত হলে তা ধীরে ধীরে তাদের কাছে অস্বাভাবিক ঘটনাকেও স্বাভাবিক করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে সহিংসতার প্রতি মানসিক প্রতিক্রিয়া কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়স উপযোগী নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অভিভাবকের নজরদারি এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট শনাক্ত ও অপসারণে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনো শিশুর আচরণে উদ্বেগজনক পরিবর্তন দেখা দিলে শাস্তির পরিবর্তে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক দিকনির্দেশনার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যে উগ্রবাদ প্রতিরোধের নীতিতে শিশু ও তরুণদের সুরক্ষা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। নতুন পরিসংখ্যান সেই উদ্বেগেরই একটি চিত্র তুলে ধরেছে—বিশেষ করে যখন ১০ বছরের কম বয়সী ৩৯৩ শিশুর ক্ষেত্রেও সন্ত্রাসবিরোধী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের প্রথম নিরাপদ মাদক সেবন কেন্দ্র চালু

যুক্তরাজ্যের হান্টারকম্ব হাসপাতালে কিশোরীর মৃত্যুঃ সিস্টেমের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ

যুক্তরাজ্যের লকডাউন শিথিলের পরের ধাপে যেসব পদক্ষেপ নিতে হবে

নিউজ ডেস্ক