13.3 C
London
October 28, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বরঃ ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে যে ৬ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের তদন্ত, অভিবাসন নীতি পর্যালোচনা, শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ পাবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেই ট্রাম্পের সব নীতি বাতিল করা সম্ভব হবে না।

নির্বাচনের আগে প্রকাশিত রয়টার্স-ইপসোসের একটি জরিপের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কংগ্রেস নির্বাচনে কোন দলকে দেখতে চান—এমন প্রশ্নে নিবন্ধিত ভোটারদের ৪৭ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের এবং ৩৬ শতাংশ রিপাবলিকানদের সমর্থন করেছেন। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের পছন্দ বিবেচনায় নিলে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫০ শতাংশ এবং রিপাবলিকানদের ৪১ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ অর্জনের লড়াই কঠিন বলে বিশ্লেষকদের মত তুলে ধরা হয়েছে। একই জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থন এক শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩২ শতাংশ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে পারে সরকারি অর্থ বরাদ্দসংক্রান্ত আইন। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম চালু রাখতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ায় অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া কিংবা নির্দিষ্ট শর্ত আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবেন তারা। বাজেট ও সরকারি ব্যয় নিয়ে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে সরকারের কিছু কার্যক্রমে অর্থসংকট কিংবা আংশিক অচলাবস্থা তৈরির ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়িভাড়া, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার খরচ কমানো ডেমোক্র্যাটদের অন্যতম নির্বাচনী অগ্রাধিকার। প্রতিনিধি পরিষদে দলের নেতা হাকিম জেফরিস আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচর্যা, গ্যাস-বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় কমানোর বিষয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের শুল্কনীতি পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে রিপাবলিকানদের ব্যয়সংকোচনমূলক সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে চাপ দিতে পারেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তদন্তও ডেমোক্র্যাটদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে শুনানি আয়োজন, নথিপত্র চাওয়া এবং সাক্ষীদের তলব করে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করতে পারবেন তারা। এতে প্রশাসনের নীতিনির্ধারণ ও সরকারি অর্থ ব্যবহারের বিভিন্ন দিক জনসমক্ষে আসতে পারে।

গগণমাধ্যমের প্রতিবেদনে সম্ভাব্য তদন্তের বিষয় হিসেবে ইলন মাস্কের নেতৃত্বে সরকারি ব্যয় কমানোর উদ্যোগ, মাস্কের কোম্পানিগুলোকে দেওয়া সরকারি চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি, কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রটেকশন ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগের কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, শুল্কনীতি, অভিবাসীদের ব্যাপক বহিষ্কার এবং ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত নিয়েও শুনানি হতে পারে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহি চাওয়ার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে তদন্ত শুরু হওয়া মানেই অনিয়ম বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত বন্ধের প্রশ্নেও কংগ্রেসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা সামরিক অভিযানের ব্যয়, আইনি ভিত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ব্যাখ্যা চাইতে পারেন। সামরিক অভিযান সীমিত করা কিংবা বন্ধের উদ্যোগে কংগ্রেসের ক্ষমতা ব্যবহারের চেষ্টাও হতে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা এবং কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক থাকায় ট্রাম্পকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করা সহজ হবে না।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ক্রিপ্টোকারেন্সি শিল্পের রাজনৈতিক ব্যয়ও আলোচনায় এসেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই খাতসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো নির্বাচনে প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। কংগ্রেসে নিজেদের পক্ষে সমর্থন বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত প্রস্তাবিত ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট পাসের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে। তবে আইনটির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কংগ্রেসে দলীয় সমর্থন ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর।

জরিপে ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও নির্বাচনের ফল নিশ্চিত নয়। ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর ফল এবং শেষ মুহূর্তের প্রচার নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন আনতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণের হিসাবও আলাদা হওয়ায় একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই সব নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না।

এ ছাড়া প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা এবং গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের পদক্ষেপের সীমা নির্ধারণ করবে। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তিত হলে প্রশাসনের ওপর নজরদারি, তদন্ত ও রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে, কিন্তু প্রেসিডেন্টের সব ক্ষমতা বিলুপ্ত হবে না। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে ট্রাম্প প্রশাসনকে কতটা শক্তিশালী বিরোধী অবস্থানের মুখোমুখি হতে হবে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এমকে

আরো পড়ুন

জাপানে স্থায়ী বসবাসের আবেদন ফি ২০ গুণঃ নতুন আয় ও ভাষার শর্ত

ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র!

লিবিয়ায় জিম্মি ৩০০–এর বেশি ইউরোপগামী অভিবাসীঃ মুক্তিপণ না পেলে কিডনি অপসারণের হুমকি