20 C
London
June 29, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে টিপিএসধারী অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার নির্দেশঃ স্বেচ্ছায় ফিরলে মিলবে বিমান ভাড়া

যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) নিয়ে অবস্থানরত অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার সুযোগ সীমিত বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, টিপিএসধারীদের হয় বৈধ স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদা অর্জনের পথ খুঁজতে হবে, নয়তো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। একই সঙ্গে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের জন্য বিমান ভাড়া এবং পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট হাইতি ও সিরিয়ার হাজার হাজার অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) বাতিলের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ কার্যকর করার অনুমতি দেওয়ার পরই তার এই বক্তব্য আসে।

মার্কওয়েন মুলিন বলেন, “হয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্থায়ী বৈধ মর্যাদার আওতায় থাকার চেষ্টা করুন, নয়তো আমরা আপনাকে নিজ দেশে ফিরে যেতে সহায়তা করব।” তিনি জানান, স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে সম্মত ব্যক্তিদের জন্য সরকার বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করবে এবং নিজ দেশে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলার আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, “আদালতের রায় এবং এই কর্মসূচির নাম থেকেই স্পষ্ট, অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা কখনোই স্থায়ী বসবাসের বিকল্প নয়।”

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্যান্য মানবিক সংকটের কারণে নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে না পারা বিদেশি নাগরিকদের সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ দিতে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) দেওয়া হয়। অতীতে বিভিন্ন প্রশাসন এই মর্যাদার মেয়াদ ধারাবাহিকভাবে নবায়ন করলেও ট্রাম্প প্রশাসন এখন তা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর হাইতির নাগরিকদের জন্য এবং ২০১২ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির নাগরিকদের জন্য টিপিএস চালু করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে এই সুরক্ষা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও হাইতি ও সিরিয়ায় ব্যাপক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ ও উচ্চমাত্রার অপরাধের ঝুঁকির কারণে নাগরিকদের ওই দেশগুলোতে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত হাইতির অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বলেছিলেন, তারা স্থানীয়দের পোষা প্রাণী খেয়ে ফেলছে। অভিযোগটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় এবং পরে তা মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, টিপিএসধারীদের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিকে আরও কঠোর করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী সুরক্ষার আওতায় বসবাসকারী হাজার হাজার অভিবাসীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

ইয়েমেনে সম্মিলিত বিমান হামলা চালালো যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য

আফগান নারীদের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ঃ এভারেস্ট জয় করলেন জাকিয়া আহমেদ

ইসরাইলি হামলার নৃশংসতার জেরে তীব্র রক্ত সংকটে গাজা