রাশিয়ায় প্লেগের আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, দেশটির সাধারণ মানুষের জন্য প্লেগের ঝুঁকি বর্তমানে খুবই কম। তবে রাশিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলে একটি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাইবেরিয়ার ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক নারী কর্মী অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর মারা যান। রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, তার অসুস্থতার সঙ্গে তিনি যে রোগজীবাণু নিয়ে কাজ করতেন, সেগুলোর কোনো যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন এবং পরে মুছে ফেলা কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় দাবি করা হয়েছে, ওই নারী নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। এমনও দাবি উঠেছে, রোগজীবাণু নিয়ে কাজ করার সময় একটি পরীক্ষার নল দুর্ঘটনাবশত ভেঙে যাওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন। তবে এসব দাবি এখনো নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর ইরকুটস্কের গবেষণাকেন্দ্র এবং আশপাশের কয়েকটি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থার বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগের পরিচালক ক্রিস লুইস বলেন, ইরকুটস্কের অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের এক কর্মীর মৃত্যুর পর রাশিয়ার ইরকুটস্ক অঞ্চলে জরুরি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়ার খবর সম্পর্কে তারা অবগত। ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি ও সংবাদগুলোর নির্ভুলতা যাচাই করতে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য বর্তমানে প্লেগের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি খুবই কম।
প্লেগ সাধারণত ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী ও তাদের শরীরে থাকা মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। তবে নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি ও ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের প্রয়োজন হয়।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে প্লেগের সংক্রমণ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আফ্রিকা, এশিয়া ও আমেরিকার কয়েকটি দেশে এই রোগের উপস্থিতি রয়েছে। চিকিৎসা না করা হলে প্লেগ দ্রুত প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে দ্রুত শনাক্ত করা গেলে অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে চিকিৎসা কার্যকর হতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়ার ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, নিউমোনিক প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে, তবে এ মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

