TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ নিয়ে জোর গুঞ্জন, এক-দুই দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্তের আভাস

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, চলতি বছরের মে মাসে লন্ডনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কথিত টেলিফোন আলাপের বিষয়টি সরকারের নজরে আসার পর থেকেই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দপ্তর বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ৯ মে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লন্ডন যান এবং ১৮ মে দেশে ফেরেন। এ সময় তিনি ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পরে জানতে পারে। এরপর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা শুরু হয় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।

তবে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের বিষয়টি শুধু ওই ফোনালাপের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার দাবি, শেখ হাসিনা সম্প্রতি ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানানোর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগকে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখা হতে পারে, যার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে পারে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১০ জুলাই প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। একই সময়ে দেশের ভেতরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর পুনর্গঠনের নানা উদ্যোগও পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকার-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, গত ১৭ জুলাই মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে চলমান অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দেন। তবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের নির্দিষ্ট সময় কিংবা তার উত্তরসূরি কে হবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়িত্ব পাওয়া শীর্ষ সাংবিধানিক ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমানে তিনিই একমাত্র দায়িত্বে রয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলে গেলেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল আছেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি জানিয়েছিলেন, পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে পদত্যাগ করতে চান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি নিজেকে অপমানিত মনে করেছেন।

পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। একই সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি আগের রাজনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করছেন—এমন তথ্য সরকারের অসন্তোষের কারণ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান-পূর্ববর্তী সময়ের কোনো ব্যক্তিকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বহাল রাখাকে সরকার আর সমীচীন মনে করছে না বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে বঙ্গভবন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তারা শুনেছেন। তবে একই সঙ্গে আগামী ২৯ জুলাই চারটি দেশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির একটি পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিও রয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে বহাল থাকবেন, নাকি পদত্যাগ করবেন—সেই সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সূত্রঃ দ্য ডেলটা লেন্স

এম.কে

আরো পড়ুন

রণক্ষেত্র সুনামগঞ্জ, আওয়ামীলীগ ও বিএনপি সংঘর্ষঃ বিএনপি কর্মী নিহত

রাজনীতিতে আর ফিরবেন না হাসিনাঃ বিবিসিকে জয়

কাতারের আমিরের মায়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক