22.2 C
London
August 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রেকর্ড ভাঙা গরমে ব্রিটেনঃ ৩৮.১ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে তাপমাত্রা

যুক্তরাজ্যে চলতি বছরের সবচেয়ে উষ্ণ দিন রেকর্ড করা হয়েছে। লন্ডনের কিউ গার্ডেনে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৩৮.১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ এবং যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে পঞ্চম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার দিন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে ইউরোপজুড়ে ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা, দাবানল ও খরার কারণে একাধিক দেশ জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।

মেট অফিস জানিয়েছে, এটি চলতি গ্রীষ্মের পঞ্চম তাপপ্রবাহের সর্বোচ্চ পর্যায়। দক্ষিণ ও মধ্য ইংল্যান্ডের অন্তত ৪০টি স্থানে তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি বা তার বেশি রেকর্ড হয়েছে। পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্ব, মিডল্যান্ডস, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে অ্যাম্বার সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পুরো ইংল্যান্ডে শুক্রবার রাত পর্যন্ত চরম তাপজনিত স্বাস্থ্য সতর্কতা বহাল রয়েছে।

ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপের অন্যান্য দেশও নজিরবিহীন গরমে পুড়ছে। ফ্রান্সে টানা ১৭ দিনের চরম তাপপ্রবাহে বোর্দোতে ৩৯ ডিগ্রি, প্যারিসে ৩৭ ডিগ্রি এবং নঁতে ৩৭ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। স্পেনের মিরান্ডা দে এব্রোতে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা নতুন করে দাবানলের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায়ও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। সারির চার্লউডে ৩৭ ডিগ্রির বেশি, ওরচেস্টারশায়ারের পারশোরে প্রায় ৩৮ ডিগ্রি এবং ওয়েলসের কিছু এলাকায় ৩৫ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের মতে, ২০২৬ সাল যুক্তরাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম হওয়ার পথে রয়েছে।

চরম গরমের কারণে দাবানলের ঝুঁকিও দ্রুত বেড়েছে। হ্যাম্পশায়ারের নিউ ফরেস্টে আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসের স্টাওরব্রিজে ঘাসে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ছয়টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুজন ধোঁয়া ও তাপজনিত সমস্যায় চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আশপাশের মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা এবং পুরো ওয়েলস এখন খরার মধ্যে রয়েছে। এতে গৃহস্থালি পানি সরবরাহ, কৃষিকাজ এবং পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকায়ও দাবানলের উচ্চ ঝুঁকির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তাপপ্রবাহের প্রভাব ইউরোপের বিদ্যুৎ উৎপাদনেও পড়েছে। ড্যানিউব নদীর পানির প্রবাহ রেকর্ড পরিমাণ কমে যাওয়ায় রোমানিয়ার একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি রিঅ্যাক্টরের মধ্যে দ্বিতীয়টিও বন্ধ করে দিতে হয়েছে। হাঙ্গেরিতে নদীর পানির স্তর বাড়াতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও দেশটির প্রধান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিকের মাত্র এক-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।

স্বাস্থ্যখাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের জরুরি বিভাগগুলো এ গ্রীষ্মে ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসে প্রতি মাসে ২৪ লাখের বেশি রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। রয়্যাল কলেজ অব নার্সিং জানিয়েছে, অনেক নার্স প্রচণ্ড গরমে “মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঘামে ভিজে” অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

জার্মানির জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের হিসাবে, শুধু এ গ্রীষ্মেই দেশটিতে অতিরিক্ত গরমের কারণে প্রায় ১২ হাজার ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা তাপপ্রবাহকে “নীরব ঘাতক” হিসেবে উল্লেখ করে সতর্ক করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে গরম উল্লেখ না থাকলেও এটি মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।

বিজ্ঞানীদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে জলচক্রের ভারসাম্য বদলে যাচ্ছে এবং তাপপ্রবাহ, খরা, ভারী বৃষ্টি ও দাবানলের মতো চরম আবহাওয়া আগের তুলনায় অনেক বেশি ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে। যুক্তরাজ্যের ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিটির অভিযোজনবিষয়ক প্রধান জুলিয়া কিং সতর্ক করে বলেছেন, নেট-জিরো লক্ষ্যে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত এমন চরম আবহাওয়া আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে বড় সুপারমার্কেট খাদ্য অপচয় রোধে নিচ্ছে বিশেষ ব্যবস্থা

ইস্ট লন্ডনে হিজাব পরিহিত মহিলাদের উপর শেতাঙ্গের হামলা

রুয়ান্ডা নীতি প্রকাশ করা আবশ্যক: বিচারকের রায়