TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের সবচেয়ে ভুতুড়ে পোস্টকোডের তালিকা প্রকাশঃ গ্রিন পার্ক স্টেশনেও ভূত দেখার দাবি

ভূতুড়ে ঘটনা ও অতিপ্রাকৃত উপস্থিতির নানা বর্ণনায় যুক্তরাজ্যের অন্যতম আলোচিত শহর লন্ডন। শহরটির বিভিন্ন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে শতাধিক ভূত দেখার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। কোথাও দেখা গেছে সামরিক পোশাক পরা রহস্যময় অবয়ব, কোথাও ভিক্টোরীয় যুগের শিশুদের মতো ছায়ামূর্তি, আবার কোথাও শোনা গেছে অদৃশ্য মানুষের পায়ের শব্দ। এসব ঘটনার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে ভুতুড়ে স্থানগুলোর একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্র প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম মাই লন্ডন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পারানরমাল বা অতিপ্রাকৃত ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ ১০ বছর গবেষণা করে ড. পল লি যুক্তরাজ্যজুড়ে ৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি কথিত ভূতুড়ে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তার গবেষণায় উঠে এসেছে দেশটির বিভিন্ন শহর ও এলাকার রহস্যময় অভিজ্ঞতার বিবরণ। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে ভুতুড়ে স্থানগুলোর মানচিত্র।

গবেষণায় যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি অতিপ্রাকৃত ঘটনার রেকর্ড পাওয়া পোস্টকোড হিসেবে উঠে এসেছে কেন্টের এমই১ (ME1) এলাকা। রচেস্টার, বার্নহ্যাম ও উডহ্যামকে ঘিরে থাকা এই অঞ্চলের ৫০টিরও বেশি স্থানে কথিত অতিপ্রাকৃত ঘটনার বিবরণ পাওয়া গেছে।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইয়র্ক শহরের কেন্দ্রীয় এলাকা ওয়াইও১ (YO1)। ঐতিহাসিক এই শহরটি ভূতুড়ে স্থান ও রহস্যময় ঘটনার জন্য আগে থেকেই পরিচিত। সেখানে নিয়মিত ভূত দেখার অভিজ্ঞতা নিয়ে পর্যটকদের জন্য বিশেষ ভ্রমণেরও আয়োজন করা হয়।

অন্যদিকে, সেন্ট্রাল লন্ডন এলাকায় অন্তত ১৫৪টি ভূত দেখার ঘটনার বিবরণ নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিন পার্ক আন্ডারগ্রাউন্ড স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ধূসর পোশাক পরা এক রহস্যময় নারীর অবয়ব দেখার দাবি রয়েছে। ওল্ড বেইলি আদালতের বাইরে কালো পোশাক পরা এক দুর্ধর্ষ ডাকাতের ভূত দেখার কথাও জানিয়েছেন কেউ কেউ।

এ ছাড়া কেনসিংটন প্যালেসে ব্রিটেনের রাজা দ্বিতীয় জর্জের ভূত দেখার দাবিও গবেষণায় উঠে এসেছে। কথিত আছে, তাকে আবহাওয়া নির্দেশক যন্ত্রের দিকে তাকিয়ে নিজের মনে বিড়বিড় করতে দেখা গেছে।

ভূতুড়ে ঘটনার বিবরণ শুধু মানুষের অবয়ব দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোথাও অদৃশ্যভাবে তামাকের ধোঁয়ার গন্ধ পাওয়া, কোথাও রহস্যময় পায়ের শব্দ শোনা এবং কোথাও রান্নাঘরের বাসনপত্র নিজে থেকেই উড়ে যাওয়ার মতো ঘটনার কথাও নথিভুক্ত হয়েছে। এমনকি কিছু ঘটনায় রান্নাঘরের বিভিন্ন সরঞ্জাম শূন্যে ভেসে থাকার দাবিও করা হয়েছে।

ড. পল লি জানিয়েছেন, তার গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত অনেক ঘটনার তথ্য প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার, নিজের তদন্ত এবং পুরোনো সংবাদপত্রের আর্কাইভ ঘেঁটে সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে সব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, এসব প্রতিবেদনের কিছু প্রতারণা কিংবা স্থানীয় জনশ্রুতিও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই প্রকৃত ঘটনা যাচাই করার কোনো উপায় নেই।

নিউক্লিয়ার ফিজিকসে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী পল লি ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের কথিত ভূতুড়ে স্থানগুলোর জাতীয় তথ্যভান্ডার তৈরির কাজ শুরু করেন। এখনো তিনি সেই আর্কাইভ নিয়মিত হালনাগাদ করছেন।

তার সাম্প্রতিক গবেষণার মধ্যে রয়েছে নরফোকের সাইডারস্টোন গ্রামের কথিত ভূতুড়ে ঘটনা। সেখানে রাতের বেলায় ধারাবাহিক কিছু রহস্যময় শব্দ ও অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠে এসেছে, যা সম্প্রতি ফরটিয়ান টাইমস সাময়িকীতেও আলোচিত হয়েছে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের ২ হাজারেরও বেশি কথিত ভূতুড়ে পাব, হোটেল ও রেস্তোরাঁ নিয়ে তার একাধিক গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। মাই লন্ডনের প্রকাশিত ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রে পোস্টকোড দিয়ে অনুসন্ধান করে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকার কথিত ভূতুড়ে স্থান সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে ডিজিটাল ড্রাইভিং লাইসেন্স আসছে এই বছর

যুক্তরাজ্যের হান্টারকম্ব হাসপাতালে কিশোরীর মৃত্যুঃ সিস্টেমের চরম ব্যর্থতার অভিযোগ

লরি ড্রাইভারদের জন্য অস্থায়ী ভিসা চালু করবে যুক্তরাজ্য

অনলাইন ডেস্ক