23.1 C
London
August 23, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন থেকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারঃ যুক্তরাজ্য–রাশিয়া সম্পর্কে নতুন সংকট

লন্ডন ও মস্কোর মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া নিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন লন্ডন থেকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনকে প্রত্যাহার করেছেন। সাত বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন শেষে তিনি গত মাসে যুক্তরাজ্য ছেড়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা রাশিয়ার একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগে বিলম্বের মাধ্যমে মস্কো কার্যত যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দূতাবাসের কার্যক্রম বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কূটনীতিক পরিচালনা করছেন।

উত্তেজনার সূত্রপাত আরও তীব্র হয়, যখন জানা যায় যে যুক্তরাজ্যে তৈরি ড্রোন ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলায় ব্যবহার করেছে। এর পরপরই লন্ডনে রাশিয়ার দূতাবাস ‘পরিণতি’ ভোগের সতর্কবার্তা দেয়। একই সময়ে ক্রেমলিন-সমর্থিত প্রচারমাধ্যমগুলো সাবমেরিন থেকে যুক্তরাজ্যে পারমাণবিক হামলার হুমকিও প্রচার করে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।

রাশিয়ার দূতাবাসের এক মুখপাত্র যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে ‘সংঘাতের পথ’ বেছে নেওয়ার অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, আন্দ্রেই কেলিন দায়িত্বে থাকাকালে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে উল্লেখযোগ্য চেষ্টা করেছিলেন। তবে যুক্তরাজ্য যদি ভবিষ্যতে রাশিয়ার প্রতি তাদের নীতিতে পরিবর্তন আনে, তবেই গঠনমূলক সংলাপ পুনরায় শুরু হওয়ার আশা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের বিষয়টি প্রথম অভ্যন্তরীণভাবে প্রকাশ করা হয় রাশিয়া দিবস উপলক্ষে দূতাবাসের এক অনুষ্ঠানে। একই দিনে মস্কোয় যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নাইজেল কেসি ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ নিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।

দুই দেশের মধ্যে শুধু কূটনৈতিক যোগাযোগই নয়, সামরিক পর্যায়ের গোপন যোগাযোগও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি।

একজন জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক সূত্র সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগই সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিকে ভয়াবহ সংঘাতে রূপ নেওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারের মাধ্যমে ক্রেমলিন মূলত যুক্তরাজ্যকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে ইউক্রেনকে অস্ত্র সহায়তা দেওয়ার কারণে লন্ডনের প্রতি তাদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে। কূটনৈতিক প্রথা অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার কোনো দেশের প্রতি গুরুতর অসন্তোষ প্রকাশের একটি স্বীকৃত পদ্ধতি হলেও এতে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক ছিন্ন হয় না। তবে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ না দেওয়া হলে কার্যত সম্পর্কের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে তা বিবেচিত হয়।

সূত্রঃ দ্য টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

দক্ষ অভিবাসীরা ব্রিটিশ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেবেঃ ব্লানকেটের নতুন পরিকল্পনায় সমর্থন

ইসরায়েল-গাজা পোস্টে মিথ্যা জড়ানো: বহিষ্কারের ক্ষতি পূরণে আদালতের দ্বারস্থ শিক্ষার্থী

জনসমক্ষে দায়িত্বে ফিরছেন যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস