TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবারের ‘কভার-আপ’ ফাঁস! অভিবাসী অপরাধের তথ্য নিয়ে জিবি নিউজের টকশোতে সংঘর্ষ

অভিবাসীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশ নিয়ে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজের সরাসরি অনুষ্ঠানে তীব্র বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন দুই অতিথি। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক মিশেল ডিউবেরিকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়।

আলোচনার মূল বিষয় ছিল—অভিবাসী ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকার কেন অনীহা দেখাচ্ছে এবং এ নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে কি না। আলোচনায় অপরাধের শিকার ১১টি পরিবারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রকাশ ও জবাবদিহির দাবি তোলার বিষয়টিও উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে সাবেক রেডিও উপস্থাপক মাজিদ নাওয়াজ অভিযোগ করেন, লেবার সরকার অভিবাসী অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, ব্রিটিশ জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাদের অনেক সময় ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ হিসেবে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাওয়াজ বলেন, “ব্রিটিশ জনগণ গ্যাসলাইটিংয়ে ক্লান্ত।” তার অভিযোগ, তথ্য কমিশনারের কাছে অভিবাসী অপরাধের পরিসংখ্যান প্রকাশের অনুরোধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে নাওয়াজের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কেভিন ক্রেগ। ১৭ বছর লেবার কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ক্রেগ নাওয়াজের বক্তব্যকে ‘তত্ত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং বলেন, সরকার তথ্য প্রকাশ না করার যে কারণ জানিয়েছিল, তা ছিল তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া ‘অনুপাতহীন’ হয়ে পড়ার আশঙ্কা।

দুই অতিথির মধ্যে তর্ক বাড়তে থাকলে উপস্থাপক ডিউবেরি হস্তক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে তিনি দুজনকে একে অপরের কথা না কাটার আহ্বান জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে দর্শকরা অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিতে পারেন।

বিতর্কের একপর্যায়ে নাওয়াজ সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে গ্রুমিং গ্যাং নিয়ে তদন্তের ক্ষেত্রে লেবার এমপিদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তোলেন। একই সঙ্গে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিতর্কও আলোচনায় আনেন।

ক্রেগের বক্তব্য ছিল, স্টারমার এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে নাওয়াজ পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—এত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে শুধু ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট কি না। তিনি বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত গ্যাং নিয়ে সরকারের আচরণে মানুষ বিরক্ত।

অন্যদিকে ক্রেগ আলোচনাটিকে বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে রাখার আহ্বান জানান। তার দাবি, সরকার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কিংবা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমাতে পারছে না—এ ধরনের বিষয় নিয়ে সমালোচনা করা যেতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে কোনো ‘গভীর গোপন পরিকল্পনা’ বা ‘কভার-আপ’-এর অভিযোগ যুক্ত করার জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রয়োজন।

ক্রেগ আরও বলেন, সরকার যে কারণে আগে তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশকে অনুপাতহীন বলেছিল, পরিস্থিতি এখন বদলেছে। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশের বিষয়টি সামনে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক ডিউবেরি দুই পক্ষের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে ক্রেগ অভিযোগ করেন, নাওয়াজকে দীর্ঘ সময় কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলেও তাকে কথা বলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ডিউবেরি অবশ্য বলেন, নাওয়াজ যদি একইভাবে কথা বলা শুরু করতেন, তাকেও থামিয়ে দেওয়া হতো।

পুরো বিতর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে ওঠে—অভিবাসী ও অপরাধের সম্পর্ক নিয়ে সরকারি পরিসংখ্যান কতটা দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হবে এবং সেই তথ্য কীভাবে জনসাধারণের সামনে উপস্থাপন করা হবে।

বিতর্কে এক পক্ষ যেখানে তথ্য প্রকাশে বিলম্বকে সরকারের ব্যর্থতা ও সম্ভাব্য গোপনীয়তার বিষয় হিসেবে দেখিয়েছে, অন্য পক্ষ সেখানে এটিকে প্রশাসনিক ও তথ্য সংগ্রহের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে জিবি নিউজের ওই সরাসরি বিতর্ক যুক্তরাজ্যে অভিবাসন, অপরাধ এবং সরকারি তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাজ্যে আসছে ই-ভিসা, কাগজবিহীন ডিজিটাল যুগে অভিবাসন ব্যবস্থা

যুক্তরাজ্যে জন লুইসের হাজার হাজার কর্মী ছাটাইয়ের ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে ডিপোজিট ছাড়াই ভাড়াটেদের জন্য বাড়ি কেনার সহজ উপায়