TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবারে নতুন নেতৃত্বের জল্পনাঃ অর্থ মন্ত্রণালয়ের দৌড়ে শাবানা মাহমুদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জন হিলির নাম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টিতে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলির নামও আলোচনায় রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, বার্নহামের ঘনিষ্ঠ মহলে শাবানা মাহমুদকে একজন দক্ষ, দৃঢ়চেতা এবং গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে দেখা হয়। সে কারণেই যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের জন্য তার নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি শাবানা মাহমুদকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে। সেই ক্ষেত্রে জন হিলি সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছেন।

দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর রাজনৈতিক পডকাস্ট ইন দ্য রুম-এ সাবেক উপ-ক্যাবিনেট সচিব হেলেন ম্যাকনামারা বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে শাবানা মাহমুদের নাম অর্থমন্ত্রী হিসেবে আরও জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে জন হিলিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তার মতে, কয়েক সপ্তাহ আগেও বর্তমান অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস দায়িত্বে বহাল থাকতে পারেন বলে ধারণা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এসেছে।

ম্যাকনামারা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন শাবানা মাহমুদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরানো উচিত হবে না, কারণ তিনি সেখানে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অর্থমন্ত্রী হিসেবেও তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন বলে তার বিশ্বাস।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে অর্থনীতি নিয়ে জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করা এবং কঠিন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা। তার মতে, শাবানা মাহমুদের মধ্যে সেই নেতৃত্বগুণ রয়েছে।

গত ২৯ জুন অ্যান্ডি বার্নহাম তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে কল্যাণ খাতে ব্যয় কমানোর ইঙ্গিত দেন। এ প্রেক্ষাপটে ম্যাকনামারা বলেন, বর্তমান কর্মসংস্থান ও পেনশনবিষয়ক মন্ত্রী প্যাট ম্যাকফ্যাডেনকে তার বর্তমান দায়িত্বেই রাখা হতে পারে, কারণ কল্যাণব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার বাস্তবায়নে তার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে জন হিলি সম্পর্কে ম্যাকনামারা বলেন, তিনি এমন একজন রাজনীতিক, যিনি বিভিন্ন মহলে সম্মানিত এবং কঠিন দায়িত্ব পালনে সক্ষম।

জন হিলি গত ১১ জুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং অর্থ মন্ত্রণালয় ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার পদত্যাগ লেবার নেতৃত্বের সংকটকে আরও গভীর করে তোলে।

এদিকে একই পডকাস্টের সহ-উপস্থাপক এবং সাবেক ডাউনিং স্ট্রিট উপদেষ্টা ক্লিও ওয়াটসন দাবি করেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মিলিব্যান্ডও আবার লেবার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ফিরতে আগ্রহী হতে পারেন। প্রয়োজনে তাকে হাউস অব লর্ডসের সদস্য করে মন্ত্রিসভায় আনার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।

তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ডেভিড মিলিব্যান্ড বলেন, অ্যান্ডি বার্নহামকে তার সরকার গঠনের জন্য স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব আলোচনা এখনো সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে জল্পনা-কল্পনার পর্যায়েই রয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহাম বা লেবার পার্টির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে ওয়েস্টমিনিস্টারের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে আলোচনা দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

রুয়ান্ডায় আশ্রয়প্রার্থী স্থানান্তর: শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেও থামছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে অবৈধ অভিবাসন রোধে ডিজিটাল আইডি চালুর চিন্তা করছে স্টারমার সরকার

যুক্তরাজ্যে ২ শিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশি ইমামের সাজা

নিউজ ডেস্ক