যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সরকার অভিবাসন নীতিতে নতুন করে পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লেবার পার্টির ভেতরে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিদ্রোহ এড়াতে প্রধানমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের প্রস্তাবিত অভিবাসন সংস্কারের কিছু অংশে সংশোধন আনতে চান।
সূত্রগুলোর দাবি, সরকারের বিবেচনায় থাকা অন্যতম বিষয় হলো—কিছু অভিবাসীর জন্য যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার (রাইট টু রিমেইন বা সেটেলমেন্ট) অর্জনের আগে যে অপেক্ষার সময় প্রস্তাব করা হয়েছিল, তা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা। যদিও কোন অভিবাসন শ্রেণির ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে বা সময়সীমা কতটা কমানো হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন প্রশ্নে লেবার পার্টির ভেতরে ভিন্নমত দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। দলের একাংশ কঠোর নীতির পক্ষে থাকলেও অন্য অংশ মানবিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ অবস্থায় নতুন প্রধানমন্ত্রী দলীয় ঐক্য বজায় রাখার পাশাপাশি সরকারের নীতিগত অবস্থানও সমন্বয় করার চেষ্টা করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের খবর প্রকাশের পর বিরোধী মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান থেকে সরকার সরে আসছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে সরকারিভাবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, অভিবাসন নীতি যুক্তরাজ্যের অন্যতম স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ইস্যু। তাই এ বিষয়ে যেকোনো পরিবর্তন সংসদ, রাজনৈতিক দল এবং জনমতের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করতে পারে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অভিবাসন সংস্কারে পরিবর্তনের এই তথ্য এখন পর্যন্ত বিভিন্ন সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল। নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। ফলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের চূড়ান্ত রূপ এবং তা কবে কার্যকর হতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে

