21.8 C
London
September 19, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

সাদিক খানকে নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীর আতঙ্কঃ ২০২৮-এর আগেই মেয়র পদ ছাড়ার আহ্বান

২০২৮ সালে লন্ডনের মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে আরও সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তার সাবেক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী শাউন বেইলি। তিনি মনে করেন, লন্ডনের জন্য এখন নতুন চিন্তা ও নতুন ধরনের নেতৃত্ব প্রয়োজন।

২০২১ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনে সাদিক খানের বিরুদ্ধে রক্ষণশীল দলের প্রার্থী ছিলেন শাউন বেইলি। বর্তমানে তিনি উচ্চকক্ষের সদস্য। তার বক্তব্য, ২০২৮ সালের নির্বাচনে সাদিক খানের আবার প্রার্থী না হয়ে মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান চলতি বছরের শুরুতে উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। তবে ২০২৮ সালের মে মাসে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী মেয়র নির্বাচনে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাননি।

সম্প্রতি একটি জনমত জরিপে দেখা গেছে, লন্ডনের ৫৬ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন সাদিক খানের মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত। তাদের মতে, এতে নতুন কোনো লেবার দলের প্রার্থীকে ২০২৮ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।

শাউন বেইলি সাদিক খানের কয়েকজন সহকারী মেয়রকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি তাদের কয়েকজনকে ‘সম্পূর্ণ অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, মেয়রের নয়জন সহকারী মেয়রের অনেকেই বছরে দেড় লাখ পাউন্ডের বেশি বেতন পান এবং লন্ডন পরিষদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মেয়রের প্রতিনিধিত্ব করেন।

তিনি বলেন, সাদিক খান মেয়র পদ থেকে সরে গেলে তার কয়েকজন সহকারী মেয়রকেও পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। তার মতে, এটি লন্ডনের জন্য প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।

তবে শাউন বেইলি দাবি করেছেন, তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে নয়। তিনি বলেন, লন্ডনের এখন নতুন চিন্তা ও নতুন ধারণা প্রয়োজন এবং সাদিক খানের নিজের পরবর্তী দায়িত্বের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সাদিক খান ও শাউন বেইলি ২০২১ সালের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও পরবর্তীতে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেইলি। তার ভাষায়, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হওয়ার পর তারা আবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ফিরেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হয়।

সাদিক খানের প্রশংসাও করেছেন শাউন বেইলি। তিনি জানান, উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর সাদিক খান তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। বেইলির মতে, সেই অভিনন্দন ছিল আন্তরিক।

শাউন বেইলি বলেন, লন্ডনের স্বার্থে ভবিষ্যতে তিনি ও সাদিক খান একসঙ্গে কাজ করতে পারেন। বিশেষ করে শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপর সরকারি নীতির প্রভাব নিয়ে তিনি সাদিক খানের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

দারিদ্র্য সম্পর্কে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বেইলি বলেন, দারিদ্র্য শুধু অর্থনৈতিক বাস্তবতা নয়; এর সঙ্গে মানুষের মানসিক ও আবেগগত অবস্থাও জড়িত। তার মতে, দরিদ্র মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে থাকতে চায় না, বরং তারা সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে।

কর ও জাতীয় বীমার মতো সরকারি নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বছরে চার লাখ পাউন্ড আয় করা একজন মানুষের ওপর জাতীয় বীমার পরিবর্তনের প্রভাব সীমিত হতে পারে। কিন্তু স্থানীয় খাবারের দোকানে কাজ করা ব্যক্তি কিংবা পণ্য সরবরাহকারী তরুণের জন্য এর প্রভাব চাকরি হারানোর মতো গুরুতর হতে পারে।

এদিকে সাদিক খানকে উচ্চকক্ষের সদস্য করার পর মেয়রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি এই সম্মানে গর্বিত এবং লন্ডনের মানুষের জন্য আরও ন্যায়সংগত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তুলতে নিজের সময় ও শক্তি ব্যয় করবেন।

তবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষে তিনি কতটা সময় দিতে পারবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি উচ্চকক্ষের সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন এবং পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে প্রথম বক্তব্য দেবেন।

২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনকে সামনে রেখে সাদিক খান আদৌ চতুর্থ মেয়াদের জন্য লড়বেন কি না, সেটিই এখন লন্ডনের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন। তার সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী ইতোমধ্যেই তাকে সরে দাঁড়িয়ে উচ্চকক্ষে লন্ডনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্রঃ মাই লন্ডন

এম.কে

আরো পড়ুন

বার্মিংহাম ছাড়লেন ৮০ হাজার মানুষ, লন্ডনের পর সবচেয়ে বড় জনপলায়ন

যুক্তরাজ্যে এনএইচএসের সাড়ে ৫ লাখ পাউন্ড লুটে বিলাসী জীবন, তবুও জেল এড়ালেন প্রতারক ব্যবস্থাপক!

যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে রোজার তারিখ ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক