14.6 C
London
October 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

সিলেটের নাগা মরিচ, সাতকরা, জারা লেবু যাবে ইউরোপেঃ কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা

প্রায় দুই দশক পর সিলেট থেকে সরাসরি ইউরোপের বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্যে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-সংলগ্ন এলাকায় প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি ইউরোপের বাজারে রপ্তানির পথ সুগম হবে। এতে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকেরা উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সিলেটভিউ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, একসময় সিলেট থেকে উৎপাদিত লেবুজাতীয় ফল ও বিভিন্ন ধরনের সবজি বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে রপ্তানি করা হতো। যুক্তরাজ্যের লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লুটন, ওল্ডহ্যাম, নিউহ্যাম, ব্র্যাডফোর্ড, রচডেল, নিউক্যাসল ও ওয়েলসের কার্ডিফসহ বিভিন্ন এলাকার বাঙালি অধ্যুষিত বাজারে এসব কৃষিপণ্যের চাহিদা ছিল। সেখান থেকে ইউরোপের অন্যান্য বাজারেও পণ্য সরবরাহ করা হতো।

তবে রপ্তানিকৃত লেবুজাতীয় ফলে ‘সাইট্রাস ক্যানকার’ রোগের জীবাণু শনাক্ত হওয়া এবং সিলেট থেকে সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই বাণিজ্যে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সাল থেকে সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে কৃষিপণ্য রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঢাকার শ্যামপুরে অবস্থিত প্যাকিং হাউসের মাধ্যমে পণ্য বাছাই, মান নিয়ন্ত্রণ ও প্যাকেজিং করে রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং পথে পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারাতে থাকেন।

সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানির অবকাঠামোগত সুবিধা তৈরিতে এর আগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় সেই সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। ফলে বিমানবন্দরে কার্গো ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সময়ে সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ কাজে লাগাতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়কে একটি আধা-সরকারি পত্র বা ডিও লেটার দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওসমানী বিমানবন্দর-সংলগ্ন বাইশটিলা এলাকায় প্যাকিং হাউস নির্মাণের জন্য জায়গাও নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি বছরেই প্রকল্পটির কাজ শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের বৈচিত্র্যময় কৃষিপণ্য ইউরোপের বাজারে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য রপ্তানি পণ্যের তালিকায় রয়েছে গোয়ালগাদ্দার সীম, নাগা মরিচ, খাসিয়া পান, তইকর, ডেফল, ফরাশ, সীমের বিচি, ঢাকাদক্ষিণের লালমাটির কচুমুখী ও লতি, জারা লেবু, আদালেবু, সাতকরা, কমলা, মাল্টা, আনারস, তরমুজ ও লুকলুকিসহ বিভিন্ন স্থানীয় ফল ও সবজি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও রপ্তানি পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেতে পারেন। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য উৎপাদনে তাদের আগ্রহ বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাকিং হাউস ছাড়া বিমানবন্দর দিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা রয়েছে। প্যাকিং হাউস স্থাপন করা গেলে সিলেট থেকে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য রপ্তানির সুযোগ আরও বাড়বে।

সিলেটের কৃষিপণ্য রপ্তানির এই উদ্যোগ সফল করতে শুধু প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণই যথেষ্ট হবে না; পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, রোগবালাই পরীক্ষা, আন্তর্জাতিক খাদ্যনিরাপত্তা বিধি অনুসরণ, যথাযথ প্যাকেজিং এবং নিয়মিত কার্গো পরিবহন নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে কৃষিপণ্য প্রবেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের উদ্ভিদস্বাস্থ্য ও আমদানি বিধি মেনে চলতে হবে।

সব মিলিয়ে, প্রস্তাবিত অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় রপ্তানি-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সিলেটের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে প্রকল্পের কাজ শুরু, নির্মাণ শেষ এবং বাণিজ্যিকভাবে রপ্তানি পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো নিশ্চিত নয়। তাই প্রায় ২০ বছর পর সিলেটের কৃষিপণ্যের ইউরোপযাত্রা বাস্তবে ফিরবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রপ্তানির আনুষঙ্গিক শর্ত পূরণের ওপর।

সূত্রঃ সিলেটভিউ২৪

এমকে

আরো পড়ুন

সিলেট-তামাবিল চার লেনের প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় ৬৪ কোটি টাকা

অনলাইন ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ

ভেন্টিলেশনে ওবায়দুল কাদের, ভারতের অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে বাসায় চিকিৎসার সিদ্ধান্ত