11.2 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
মুক্তমত

হিমালয়ের পলি, পদ্মা-যমুনার স্রোত এবং বঙ্গোপসাগরের বুকে জন্ম নেওয়া এক ভূখণ্ড বাংলাদেশ

নাশীত রহমান              II      লন্ডন    II               ২৪ অক্টোবর ২০২৬

 

বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস, নদীবাহিত পলি এবং বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ক্রমবর্ধমান বেঙ্গল ফ্যানের বিস্ময়কর কাহিনি

বাংলাদেশ কেবল একটি রাষ্ট্রের নাম নয়; এটি প্রকৃতির এক অসাধারণ সৃষ্টি। হাজার হাজার বছর ধরে নদীর স্রোত, পাহাড়ের ক্ষয়, বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং সমুদ্রের সঙ্গে স্থলভাগের নিরন্তর মিথস্ক্রিয়ার ফলে গড়ে উঠেছে আজকের বাংলাদেশ। পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ ব্যবস্থার অন্যতম এই ভূখণ্ডের জন্ম ও বিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হিমালয় পর্বতমালা, পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা এবং বঙ্গোপসাগরের গভীর সম্পর্ক।

আমরা সাধারণভাবে জানি, হিমালয় থেকে বয়ে আসা পলিমাটি দিয়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড গঠিত হয়েছে। কথাটি সত্য হলেও সম্পূর্ণ নয়। কারণ বাংলাদেশের ভূমি গঠনের পেছনে শুধু হিমালয়ের ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা ও পলির অবদান নেই; ভারতের উপদ্বীপীয় অঞ্চল, মেঘালয় ও শিলং মালভূমি, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় পাহাড় এবং অন্যান্য নদী অববাহিকা থেকেও বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়েছে।

আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, বাংলাদেশ গঠনের এই ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ হয়নি। নদীগুলো আজও পলি বহন করছে, কোথাও নতুন চর জাগছে, কোথাও নদীভাঙনে জনপদ বিলীন হচ্ছে, আবার বিপুল পরিমাণ পলি বঙ্গোপসাগরের তলদেশে জমা হচ্ছে। সেই পলি সমুদ্রের গভীরে তৈরি করেছে পৃথিবীর বৃহত্তম সমুদ্রতলীয় পলল-পাখাগুলোর একটি—যার নাম বেঙ্গল ফ্যান (Bengal Fan)।

হিমালয়ের জন্ম থেকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের সৃষ্টি – প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সঙ্গে ইউরেশীয় প্লেটের সংঘর্ষের ফলে হিমালয় পর্বতমালার উত্থান শুরু হয়। সেই সংঘর্ষ ও পর্বতগঠনের প্রক্রিয়া আজও চলমান।

হিমালয়ের উঁচু পর্বতগুলো বৃষ্টি, বরফ, হিমবাহ, তাপমাত্রার পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে ক্রমাগত ভাঙছে। ভাঙা শিলা, বালু, কাদা ও সূক্ষ্ম পলিকণা নদীর মাধ্যমে নিচের দিকে নেমে আসে। ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা নদী এই বিপুল পলির প্রধান পরিবহনকারী। বাংলাদেশে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্রের প্রধান প্রবাহ যমুনা নামে পরিচিত। অন্যদিকে গঙ্গার প্রধান প্রবাহ পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়ে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়। পরে এই সম্মিলিত জলধারা মেঘনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়। হাজার হাজার বছর ধরে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, বন্যার সময় পলি বিস্তার এবং নদীর মোহনায় পলি জমার ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ সমভূমি গড়ে উঠেছে।

তবে বাংলাদেশের সব ভূমি একই বয়সের নয়। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যাঞ্চলের মধুপুর গড় এবং পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকার ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস নবীন বদ্বীপের সমভূমি থেকে আলাদা। ফলে সমগ্র বাংলাদেশকে শুধু সাম্প্রতিক নদীবাহিত বালুর স্তূপ হিসেবে বিবেচনা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক হবে না।

পদ্মা ও যমুনা: ভূমি নির্মাণের দুই প্রধান কারিগর – পদ্মা ও যমুনা কেবল বাংলাদেশের প্রধান নদী নয়; এরা ভূখণ্ডের আকৃতি পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী প্রাকৃতিক মাধ্যম। বর্ষাকালে বিপুল জলরাশির সঙ্গে এই নদীগুলো বালু, কাদা ও পলি বহন করে। নদীর প্রবাহের গতি কমে গেলে এসব উপাদান নদীর তলদেশ, তীরবর্তী সমভূমি ও মোহনায় জমা হয়। এভাবেই জন্ম নেয় নতুন চর, নদীদ্বীপ এবং পলিগঠিত ভূমি।

একদিকে পদ্মা বা যমুনার ভাঙনে শত বছরের পুরোনো বসতভিটা, কৃষিজমি ও জনপদ নদীগর্ভে হারিয়ে যায়; অন্যদিকে কিছু দূরে নতুন চর জেগে ওঠে। এটি প্রকৃতির একই সঙ্গে ধ্বংস ও সৃষ্টির প্রক্রিয়া। তবে নদীতে নতুন চর জাগা মানেই দেশের মোট ভূমির পরিমাণ সমান হারে বৃদ্ধি পাওয়া নয়। কারণ কোথাও ভূমি সৃষ্টি হলে অন্য কোথাও ক্ষয় হতে পারে। জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমির অবনমন এবং ঘূর্ণিঝড়ও এই ভারসাম্যকে প্রভাবিত করে।

বঙ্গোপসাগরের নিচে তিন হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ বিস্ময়: বেঙ্গল ফ্যান – বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায়টি হয়তো আমাদের চোখের আড়ালেই রয়ে গেছে। সেটি হলো বঙ্গোপসাগরের গভীর তলদেশে বিস্তৃত বিশাল পললভূমি—বেঙ্গল ফ্যান। বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুযায়ী, বেঙ্গল ফ্যান প্রায় ৩,০০০ কিলোমিটার বা ১,৮৬৪ মাইল দীর্ঘ এবং প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার প্রশস্ত। এর আয়তন প্রায় ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার। কোনো কোনো স্থানে এর সঞ্চিত পলির স্তর প্রায় ১৬.৫ কিলোমিটার পুরু।

অর্থাৎ সমুদ্রের তলদেশে বাংলাদেশের নদীগুলোর বহন করা পলি দিয়ে এমন এক বিশাল ভূতাত্ত্বিক কাঠামো তৈরি হয়েছে, যার আয়তন বাংলাদেশের স্থলভাগের তুলনায় বহুগুণ বড়। এই বেঙ্গল ফ্যান কোনো দৃশ্যমান বালুচর বা সমুদ্রের ওপর জেগে ওঠা নতুন ভূখণ্ড নয়। এটি সমুদ্রের গভীরে কোটি কোটি বছর ধরে জমা হওয়া বালু, কাদা, পলি এবং অন্যান্য পাললিক পদার্থের বিশাল সমাহার। এটি বঙ্গোপসাগর অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরের গভীর অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

প্রতিদিন কি বেঙ্গল ফ্যান বড় হচ্ছে? বেঙ্গল ফ্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, এটি একটি সক্রিয় ভূতাত্ত্বিক ব্যবস্থা। নদীবাহিত পলি আজও সমুদ্রের গভীরে পৌঁছাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে নতুন পলির স্তর তৈরি করছে।

গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীব্যবস্থা বছরে আনুমানিক ১০০ কোটি টনের কাছাকাছি পলি পরিবহন করে বলে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই পলির সবটুকু সরাসরি বেঙ্গল ফ্যানে পৌঁছায় না। একটি বড় অংশ নদীর প্লাবনভূমি, বদ্বীপ এবং উপকূলীয় এলাকায় জমা হয়। ২০২৬ সালে Communications Earth & Environment সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বেঙ্গল ফ্যানের আধুনিক সক্রিয় পলিসঞ্চয় অঞ্চল সম্পর্কে নতুন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, সমুদ্রতলীয় পলিপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে পলি জমার প্রধান সক্রিয় অঞ্চল অতীতে ধারণা করা অবস্থানের তুলনায় প্রায় ১,৮০০ কিলোমিটার উজানে অবস্থিত।

 

এই গবেষণা প্রমাণ করে, বেঙ্গল ফ্যান কোনো স্থির বা মৃত ভূতাত্ত্বিক কাঠামো নয়। এটি এখনো পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে এখানে একটি বৈজ্ঞানিক পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। বেঙ্গল ফ্যানে পলি জমার প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও এর অর্থ এই নয় যে প্রতিদিন সমান হারে এর দৈর্ঘ্য বাড়ছে অথবা সমুদ্রের ওপর নতুন স্থলভাগ জেগে উঠছে। পলিসঞ্চয়ের হার ও অবস্থান সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়।

সমুদ্রের গভীরে পলি পৌঁছায় কীভাবে? বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গভীর সামুদ্রিক খাদ, যার নাম Swatch of No Ground। এই সামুদ্রিক খাদ নদীর মোহনা ও মহীসোপানের পলিকে গভীর সমুদ্রের দিকে পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। নদী থেকে আসা পলি প্রথমে মোহনা ও মহীসোপানে জমা হয়। পরে বিশেষ পরিস্থিতিতে পলিমিশ্রিত ঘন পানির স্রোত সমুদ্রের ঢাল বেয়ে নিচে নেমে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় Turbidity Current। এই স্রোত গভীর সমুদ্রে বালু, কাদা ও সূক্ষ্ম পলিকণা বহন করে। দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পলি জমতে জমতে তৈরি হয়েছে বেঙ্গল ফ্যানের বিশাল স্তরবিন্যাস।

বাংলাদেশের মাটি শুধু হিমালয়ের নয় – বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠনে হিমালয়ের অবদান প্রধান হলেও একমাত্র নয়। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা ও তিস্তা নদীর মাধ্যমে হিমালয় ও তিব্বত অঞ্চলের ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা, বালু, কাদা এবং পলি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পৌঁছায়। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের শিলং মালভূমি, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও বরাক উপত্যকা, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চল এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকেও বিপুল পরিমাণ পলি এসে জমা হয়। বিশেষ করে মেঘনা নদী এবং এর গুরুত্বপূর্ণ উপনদী সুরমা, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, ধলাই, জুড়ী ও অন্যান্য নদী বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভূমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভারতের বরাক নদী বাংলাদেশ সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে বিভক্ত হয়। এসব নদী মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি অঞ্চল থেকে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলা, বালু ও পলি বহন করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও বৃহত্তর হাওর অঞ্চলের পললভূমি গঠনে অবদান রাখে।

অন্যদিকে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার, করতোয়া, আত্রাই, পুনর্ভবা ও মহানন্দার মতো নদীগুলো উত্তরবঙ্গের ভূমি গঠন ও পলি পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কর্ণফুলী, সাঙ্গু, মাতামুহুরী, ফেনী ও গোমতী নদী পার্বত্য চট্টগ্রাম, ত্রিপুরা এবং সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চল থেকে পলি বহন করে উপকূলীয় সমভূমি ও মোহনা অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, আড়িয়াল খাঁ, কীর্তনখোলা, বিষখালী, বলেশ্বর, গড়াই, মধুমতী, রূপসা ও পশুরসহ অসংখ্য নদী পলি পরিবহন, পুনর্বণ্টন এবং বদ্বীপের বিস্তীর্ণ সমভূমি গঠনের সঙ্গে জড়িত। এসব নদীর অনেকগুলো সরাসরি নতুন পলি বহন করার পাশাপাশি বৃহত্তর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীব্যবস্থা থেকে আসা পলি বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়।

বঙ্গোপসাগরের বৃহত্তর পললব্যবস্থায় ভারতের মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, কাবেরী ও অন্যান্য নদীরও অবদান রয়েছে। তবে সমুদ্রের গভীরে বিস্তৃত বিশাল বেঙ্গল ফ্যানের প্রধান পলির উৎস গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র নদীব্যবস্থা। ফলে বাংলাদেশের ভূমি গঠনের ইতিহাসকে শুধু হিমালয় থেকে নেমে আসা বালুর ইতিহাস হিসেবে ব্যাখ্যা করলে তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বাংলাদেশের ভূখণ্ড সৃষ্টি হয়েছে হিমালয়, তিব্বত মালভূমি, উত্তর-পূর্ব ভারতের পাহাড়ি অঞ্চল, বাংলাদেশের নিজস্ব পার্বত্য এলাকা এবং অসংখ্য নদ-নদীর সম্মিলিত ভূতাত্ত্বিক কার্যক্রমের মাধ্যমে।

এটি দক্ষিণ এশিয়ার এক বিশাল ও চলমান প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার ফলাফল, যেখানে পর্বতের ক্ষয়, নদীর প্রবাহ, মৌসুমি বৃষ্টিপাত, বন্যা, পলিসঞ্চয়, সমুদ্রস্রোত এবং টেকটোনিক পরিবর্তন লাখ লাখ বছর ধরে একসঙ্গে কাজ করেছে। এই প্রক্রিয়া আজও অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের নদীগুলো এখনো কোথাও ভূমি ভাঙছে, কোথাও নতুন চর সৃষ্টি করছে এবং বিপুল পরিমাণ পলি বঙ্গোপসাগরের তলদেশে জমা করছে।

যে প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে, সেই প্রক্রিয়াই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে – বাংলাদেশের ভূমি গঠনের ইতিহাস শুধু অতীতের বিষয় নয়। এটি দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা নদীর পলিসঞ্চয় দেশের কৃষিজমির উর্বরতা, চরাঞ্চলের সৃষ্টি এবং উপকূলীয় ভূমির পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে নদীভাঙন, উপকূলীয় ক্ষয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা এবং ভূমির অবনমন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। প্রকৃতি একদিকে ভূমি তৈরি করছে, অন্যদিকে সেই ভূমির কোনো কোনো অংশ আবার নদী ও সমুদ্রের মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ভূমি ব্যবস্থাপনা, নদীশাসন, বন্দর উন্নয়ন, উপকূলীয় অবকাঠামো এবং জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের জন্ম এখনো শেষ হয়নি – বাংলাদেশের জন্ম কোনো একদিনের ঘটনা নয়। এটি কোটি বছরের ভূতাত্ত্বিক বিবর্তন এবং হাজার হাজার বছরের নদীবাহিত পলিসঞ্চয়ের ধারাবাহিক ফলাফল। হিমালয়ের পাহাড়ে যে শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তার একটি অংশ নদীর স্রোতে ভেসে বাংলাদেশের সমভূমিতে পৌঁছায়। সেই পলির কিছু অংশ বাংলাদেশের কৃষিজমি ও চরাঞ্চল গড়ে তোলে, আর অন্য অংশ বঙ্গোপসাগরের গভীরে পৌঁছে বেঙ্গল ফ্যানের বিশাল পললস্তরে যুক্ত হয়। এক অর্থে বাংলাদেশের ভূখণ্ডের ইতিহাস হিমালয় থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত এক অবিরাম প্রাকৃতিক যাত্রার ইতিহাস। আজ আমরা যে বাংলাদেশকে মানচিত্রে দেখি, তার স্থলভাগ যেমন নদী ও পলির মাধ্যমে পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি সমুদ্রের গভীরেও চলেছে পলিসঞ্চয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া। বাংলাদেশ তাই শুধু নদীমাতৃক দেশ নয়; এটি নদীর হাতে গড়া এক পরিবর্তনশীল ভূখণ্ড। আর বঙ্গোপসাগরের গভীরে বিস্তৃত বেঙ্গল ফ্যান সেই ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের এক অসাধারণ সাক্ষী।

আরো পড়ুন

বিশ্বক্রীড়া, রাজনীতি ও জনমতের পরিবর্তন: আর্জেন্টিনা বিতর্ক থেকে বৈশ্বিক ক্রীড়া রাজনীতির নতুন বাস্তবতা

ভারতের ‘লাভ জিহাদ’ আইনের লক্ষ্যবস্তু মুসলিমরা!

অনলাইন ডেস্ক

সোল অথবা জয়েন্ট মর্গেজ অ্যাপ্লিকেশন